বনের কোলেই একান্ত বিশ্রাম” – অরণ্যছোয়া ইকো রিসোর্ট‑এ এক নজরে। বাংলাদেশের সুন্দরবন — ম্যানগ্রোভ বন, নদীমাতৃক পথ এবং নিরিবিলি পরিবেশের এক অনন্য প্রেক্ষাপট। এই প্রকৃতির মাঝে যদি আপনি একটু অন্যরকম একটা ছুটি চান—শহরের হ্যামহাম থেকে দূরে, গাছের ছায়া, নদীর হাওয়া, টহল দেওয়া অরণ্যজীবন—তাহলে আবাসনের দিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু ভেবে দেখুন কোথায় যাবেন। এখানে আসে এক অনন্য বিকল্প: অরণ্যছোয়া ইকো রিসোর্ট।
এই রিসোর্ট শহরের ভিড়, বাজি, হোটেলের উঁচু বিলাসিতা এসব থেকে একটু সরিয়ে নিয়ে যায় — এবং আপনাকে দেয় প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। কাঠ ও বাঁশের কটেজ, নদীর ধারে হাঁটার পথ, বিকেলের নীরবতা — এসব অভিজ্ঞতা শহরের হোটেলে খুব কমই পাওয়া যায়।
রিসোর্টের ভিতরের নির্মাণ‑ভিত্তিক ভাবনা পরিবেশ‑বান্ধব: কটেজগুলো স্থানীয় উপাদানে গড়া, পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে থাকা দেওয়া হয়েছে। এখানে আসা মানেই নিজের জন্য একটু বিরতি নেওয়া—বিশ্রামের জন্য, চিন্তা থেকে একটু মুক্ত হওয়ার জন্য।
রুম ভাড়া বিষয়েও এই রিসোর্ট তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে কারণ নিরিবিলি ও প্রকৃতির মাঝখানে থাকার অভিজ্ঞতা এখানে। তবে দাম যতই হোক, যা মেলে—শান্তি, সুস্থতা, মন ভালো করার সময়—সেটাই মূল পাওয়া।
পরবর্তী অংশে আমরা বিস্তারিত জানব রুম কোয়ালিটি, সুবিধাসমূহ ও কিছু খেয়াল রাখার বিষয়।
নিস্তব্ধ অরণ্য,সূর্যের আলো পাতার ফাঁক দিয়ে নেমে আসে—যেন বিভূতিভূষণের পাতায় লেখা এক অনন্ত যাত্রা।
সুন্দরবন যেন প্রকৃতির এক অদম্য মহাকাব্য।

সুন্দরবনের হৃদয়ে—অরণ্যছায়া ইকো রিসোর্ট, যেখানে নীরবতা হয় সবচেয়ে সুন্দর সঙ্গী।
ঢাকা থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টার গাড়ি ভ্রমণ
এরপর ৪৫ মিনিটের বোট রাইডেই পৌঁছে যাবেন আমাদের সবুজের স্বর্গে।
প্যাকেজের সাথে থাকছে :
মংলা থেকে রিসোর্ট পর্যন্ত বোট ট্রান্সপোর্ট
ওয়েলকাম ড্রিংকস
৩ বেলা খাবার ও সন্ধ্যার নাস্তা
ক্যানেল ক্রুজিং সুন্দরবনের গহীনে (ডিঙ্গি নৌকা)
করমজল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পরিদর্শন
লেকে সাঁতার কাটার ব্যবস্থা
BBQ পার্টির ব্যবস্থা
গাড়ি পার্কিং সুবিধা
এবার চলুন প্রকৃতির টানে, সুন্দরবনের মাঝে অরন্যছায়া ইকো রিসোর্ট-এ
সুন্দরবনের নীরবতা আর নদীর সুরে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা - মাত্র ২৫০০ টাকায়।আপনার পরবর্তী গন্তব্য - অরণ্যছায়া ইকো রিসোর্ট।
এসি কটেজ - ভিআইপি কটেজ (সুন্দরবন ও রিভার ভিউ)এক রুমে ৪ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ৪০০০ টাকা
এক রুমে ৩ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ৪৫০০ টাকা
এক রুমে ২ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ৫০০০ টাকা
নন এসি রুম - ডিলাক্স কটেজ (সুন্দরবন ও রিভার ভিউ)এক রুমে ২ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ৩৭৫০ টাকা
নন এসি কটেজ - ভিআইপি সেমি ডুপ্লেক্স কটেজ (সুন্দরবন ও রিভার ভিউ)এক রুমে ৪-৫ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি): ৩৫০০ টাকা
এক রুমে ৮-১২ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ২৫০০ টাকা
এক রুমে ৬-৭ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ৩০০০ টাকা
পড হাউজ (লেক ভিউ)এক রুমে ৫ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ২০০০ টাকা
এক রুমে ৪ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ২৩০০ টাকা
এক রুমে ৩ জন থাকলে খরচ (জনপ্রতি): ২৫০০ টাকা
খাবারের মেনু 
• সকাল: খিচুড়ি + ডিম + বেগুন ভাজি
• দুপুর: ভাত + ২ প্রকার ভর্তা + মাছ ভাজি + মুরগি + ডাল + সালাদ
• রাত: ভাত + ভর্তা + সবজি + দেশি হাঁস + ডাল
অথবা: চিকেন বারবিকিউ + লুচি + ডাল
• সন্ধ্যার নাস্তা
বিশেষ সুবিধাসমূহ:
গাড়ি পার্কিং সুবিধা
BBQ পার্টির ব্যবস্থা
বড় লেক
ফিশিং
ভ্রমণের শর্তাবলী 
মংলা থেকে সকাল ১১:৩০ টার পর শেয়ারিং বোটে রিসোর্টে পৌঁছানো হবে।
পরদিন সকাল ১১টায় চেক আউট রিসোর্ট থেকে।
করমজলের এন্ট্রি ফি (৪৬৳) ও ফেরী ঘাটের টোল ফি (৪৳) নিজে বহন করতে হবে।
লোকেশন:সুন্দরবন, ভজনখালি, দাকোপ, খুলনা
এবার চলুন প্রকৃতির টানে, সুন্দরবনের মাঝে অরন্যছায়া ইকো রিসোর্ট-এ
রুম কোয়ালিটি, ভাড়া এবং সুবিধাসমূহ রুম কোয়ালিটি & ভাড়া
অরণ্যছোয়া ইকো রিসোর্টে রুমগুলো সাধারণ হোটেলের মতো বিলাসবহুল নাও হতে পারে, কিন্তু সেটাই এখানে মূল শক্তি—“ভ্রমণ ঘর নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর ঠিকানা”। রুমগুলো সাধারণত দুইজন বা তিনজনের জন্য উপযোগী কটেজে হয়, কাঠ ও বাঁশের ব্যবহার, বারান্দা সহ, যাতে আপনি বসে নদী বা বনদৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
ভাড়া পরিমাণ স্থানীয় বাজারে ভিন্ন হতে পারে। একটি প্রচলিত ধারণা হলো—সাধারণ কটেজ ভাড়া থাকতে পারে মাঝারি রেঞ্জে (উচ্চ সিজন ছাড়া), এবং পরিবার বা বড় গ্রুপ হলে বাড়তি খরচ পড়তে পারে।
সুবিধাসমূহ
- নিরিবিলি পরিবেশ: রাতের সময় ঘুম ভাঙতে পারে শুধু পাখির ডাক বা নদীর হাওয়া — শহরের শব্দ নেই।
- বনভ্রমণ‑সহায়তা: রিসোর্ট থেকে সুন্দরবনের ঘন বনভূমি ও নদীপথে এক্সকুরশন আয়োজন করা হয়।
- পরিবেশ‑বান্ধব নির্মাণ ও বিশ্রামের জায়গা: শহরের হট উঠানায় নেই এমন নির্জনতা পাওয়া যায়।
- রেস্টুরেন্ট বা খাবার ব্যবস্থা: স্থানীয় উপাদানে রান্না, সিম্পল মেনু হলেও স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা রয়েছে।
খেয়াল রাখার বিষয় বা সীমাবদ্ধতা
❤যোগাযোগ ও যাতায়াত: নিরব পরিবেশের কারণে ফোন নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট সিগন্যাল কঠিন হতে পারে, তাই আগেই প্রস্তুতি থাকা ভালো।
❤বিলাসিতা কম হতে পারে: বিলাসবহুল হোটেলের মতো সুইমিং পুল, লিফট বা সুইমিং সুবিধা এখানে নাও থাকতে পারে।
❤রুম‑ভাড়া তুলনায় একটু বেশি পড়তে পারে কারণ অবস্থান ও পরিবেশ উভয়ই বিশেষ।
❤বিলাসিতা কম হতে পারে: বিলাসবহুল হোটেলের মতো সুইমিং পুল, লিফট বা সুইমিং সুবিধা এখানে নাও থাকতে পারে।
❤রুম‑ভাড়া তুলনায় একটু বেশি পড়তে পারে কারণ অবস্থান ও পরিবেশ উভয়ই বিশেষ।
আপনি যদি চান—একান্ত সময়, আরাম‑বিচার, এবং প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা মিশে থাকার অভিজ্ঞতা—অনেক বাজারভিত্তিক হোটেল না খুঁজে, বরং এমন একটি রিসোর্ট বেছে নিন যা সাধারণ “থাকার জায়গা” থেকে একটু উপরে। অরণ্যছোয়া ইকো রিসোর্ট তার একটি চমৎকার উদাহরণ।
এখানকার রুমগুলো যে মূল্য দিচ্ছে, সেটা শুধু ঘর নয়—একটি মুহূর্ত, এক শান্ত সাস্পেনশন, এক মন ভালোর জন্য উপযুক্ত সময়। আপনি এখানে বসে ভাববেন না “আমি কোথায় আছি?”—বরং বলবেন “আমি ঠিক এখানে ছিলাম।”
রুম ভাড়া, সুবিধাসমূহ এবং খেয়াল রাখার বিষয়গুলো জেনে রাখলে আপনার ট্রিপ হবে আরও নির্ভুল ও আরাম‑জনক। তাই এখনই পরিকল্পনা করুন, ব্যাগ বানিয়ে ফেলুন, আর সুন্দরবনের বুকে একটু নিজেকে দিন… ভ্রমণ হোক আনন্দদায়ী, স্মরণীয় এবং নিরব।

