বাংলাদেশের শহুরে ব্যস্ততা, ট্রাফিক হর্ন আর কোলাহল থেকে একটু মুক্তি পেতে চাইলে ভাল এক‑দিনের ভ্রমণ হতে পারে লালমাই পাহাড় অঞ্চলে। শুধু গ্রীণ হিল রেঞ্জই নয়, এখানে আছে প্রাচীন ইতিহাস, পাহাড়ি ট্রেইল, আর ছোট‑খাট অ্যাডভেঞ্চার — যা শুধু একদিনেই অনুভব করা সম্ভব হতে পারে। আমি আপনাকে আজ দেখাবো কীভাবে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে কোটবাড়ি ও লালমাইসহ আশেপাশের ৫টি দর্শনীয় স্থানে ঘুরে ফিরে আসা যায়।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা এক‑দিনের হিল হাইক প্ল্যান: পাহাড়, ইতিহাস ও নীলিমার এক সঙ্গে মেলা
আপনি ঢাকা থেকে সকালে রওনা দেবেন — স্বপ্নীল পাহাড় ও সবুজ পথের দিকে। প্রথম স্টপ হবে কুমিল্লা শহর। সাধারণত ঢাকা–কুমিল্লা রাস্তায় মত একটি বাস বা কার ভাড়া নিয়েই সকাল ৬‑৭টার দিকে রওনা দেওয়া ভালো। সময় লাগতে পারে প্রায় *২.৫‑৩ ঘণ্টা* (দ্বিমুখী বাস রুট ও ট্রাফিকের ওপর নির্ভরশীল)। ([turn0search8]
কুমিল্লায় পৌঁছে এসে গাড়ি বা সিএনজি নিয়ে কোটবাড়ি বা লালমাই পাহাড়ের দিকে রওনা হোন। পাহাড়ভিত্তিক রেঞ্জের মাঝ দিয়ে ছোট‑খাটো রাস্তায় গাড়ি চলবে, তাই একটু আগেভাগে রওনা হলে অনেক ভালো।
৫টি দর্শনীয় স্থান
নিচে এক‑দিনের হাইক ও দর্শনভিত্তিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ৫টি স্পট দেওয়া হলো:
- ১০‑১১টার দিকে লালমাই বটানিক্যাল গার্ডেনে হাঁটা‑চলা
- দুপুরে স্থানীয় খাবার দিয়ে বিশ্রাম
- দুপুর ২‑৩টার দিকে শালবন বিহার বা কুটিলা মুড়ায় ইতিহাস ঘেঁটে দেখা
- বিকেলে রানীর বুংগুলো মন্দির ঘুরে ডায়নো পার্কে সময় দেওয়া
- সন্ধ্যার আগে ফিরে কুমিল্লা শহর হইতে ঢাকা উদ্দেশে রওনা
খরচের তুলনায়
যাত্রা ও খরচ মিলিয়ে সাধারণ বাজেট রাখা যায়:
- ঢাকা → কুমিল্লা বাস/কার: ≈ ৳৬০০‑৮০০
- সিএনজি/অটো ট্রান্সফার: ≈ ৳১৫০‑৩০০
- ঢালমাই পয়েন্ট ও রাইড‑এন্ট্রি খরচ: ≈ ৳২০০‑৫০০
মোট আনুমানিক ≈ ৳১৯০০‑২৫০০ রেঞ্জ সম্ভব (একজনের জন্য)।
সিক্রেট টিপস
- সকালে রওনা হলে ট্রাফিক কম ও সময় ভালো থাকে
- হালকা জুতা ও জ্যাকেট সঙ্গে রাখুন—পাহাড়ি হাওয়ার জন্য
- বটানিক্যাল গার্ডেনে বসার বেঞ্চ ও ছায়াময় জোন রয়েছে—এখানে একটু বিশ্রাম নেওয়া ভালো
- ইতিহাস‑স্থানগুলোতে স্থানীয় গাইড পাওয়া যেতে পারে, যদি চান বিস্তারিত জানতে
- ডায়নো পার্কে রাইড করার আগে সময়সূচি দেখুন—অনেক সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়
১. লালমাই বটানিক্যাল গার্ডেন
এই পাহাড়ি রেঞ্জের মধ্যে অবস্থিত এক প্রকৃতি‑শিক্ষণ পার্ক যেখানে বিরল উদ্ভিদ ও বৃক্ষ রক্ষিত। [1] পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে গিয়ে হালকা হাঁটা‑চলা ও ছবি তোলার জন্য আদর্শ। সময় দিন সকালাতে এখানে পৌঁছাতে এবং ৩০‑৪৫ মিনিট হাঁটার পরিকল্পনা করুন।
২. শালবন বিহার – প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ
লালমাই রেঞ্জের রূপ সহজেই ইতিহাস অনুভব করার সুযোগ দেয়। শালবন বিহার এখানে রয়েছে সপ্তম‑দশম শতকের মঠের ধ্বংসাবশেষ যা পুরাতন বৌদ্ধ সভ্যতার চিত্র বহন করে। [2] ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
৩. কুটিলা মুড়া
এটাও একই রেঞ্জের অংশ, বিশেষভাবে কুটিলা মুড়া ধ্বংসাবশেষ দর্শনের জন্য। [3] এখানে একটু সময় নিয়েই একটু হাইকিং আস্বাদন করা যায়। ট্রেইল শান্ত এবং পথচলা সহজ।
৪. রানীর বুংগুলো মন্দির
হিল রেঞ্জের এক সুন্দর জায়গায় অবস্থিত এই মন্দিরে পৌঁছানো যায় হালকা রাস্তায়। исторিক ভাবেই এটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। [4] এখানে দুপুর বা বিকেলের সময় গিয়ে অনেকেই শান্ত সময় কাটান।
৫. ডায়নো পার্ক, কোটবাড়ি
পরিবার‑ভিত্তিক ভ্রমণে বিশেষভাবে উপযুক্ত জায়গা হলো Dino Park কোটবাড়ি — যা লালমাই পাহাড়ের মাঝেই অবস্থিত এক ব্যতিক্রমী বিনোদন স্পট। জীবন্ত ডাইনোসর রেপ্লিকা, রাইড এবং সবুজ পরিবেশ এখানে রয়েছে। [5] বিশেষ করে বাচ্চাদের সঙ্গে হলে এখানে একটা সময় দেওয়া একদম ঠিক সিদ্ধান্ত।
দিনের প্ল্যান নমুনা
- সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে রওনা
- সকাল ৯‑১০টার দিকে কুমিল্লা শহর পৌঁছান
এই এক‑দিনের হাইক ও ভ্রমণ আপনার মনকে দেওয়া হবে এক বিরতি—শহর থেকে দূরে একটু থেমে নিজেকে শুনার সুযোগ। লালমাই পাহাড়ের নীলিমা, ইতিহাসের ছাপ, প্রথমবারের মতো ডায়নো পার্কের আনন্দ—সব মিলিয়ে তৈরি হবে স্মৃতির এক অধ্যায়। যদি আপনি ঘুরতে ভালোবাসেন, নতুন জায়গায় যেতেও না ভয় পান, তাহলে এই প্ল্যান অনুসরণ করে যেতে পারেন।
ভ্রমণ হোক নিরাপদ ও আনন্দঘন!

