বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে যাওয়ার জন্য এখন সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম হলো ট্রেন। ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন রুট চালু হওয়ায় অনেক যাত্রী ট্রেনকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন কারণ এটি সাশ্রয়ী, আরামদায়ক এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে একটি সাধারণ সমস্যা হলো — টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ছুটির সময়ে। এই পোস্টে জানবেন কীভাবে সহজে টিকিট পাবেন এবং এমন কিছু "সিক্রেট টিপস" যা অন্যরা জানে না।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ উপায় ও সিক্রেট টিপস
কক্সবাজার ট্রেন সার্ভিস – সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন সংযোজন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ বা ‘তূর্ণা নিশীথা’ (যেটি চালু হতে পারে বিশেষ সময়ে), এখন সরাসরি ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করছে। এই ট্রেনগুলোতে শোভন চেয়ার, এসি সিট, এসি কেবিন ইত্যাদি রয়েছে। যাত্রাপথ প্রায় 10-12 ঘণ্টা।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
১. অনলাইনে টিকিট কাটার পদ্ধতি (eticket.railway.gov.bd)
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা *"Rail Sheba"* অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টিকিট কাটতে পারেন।
ধাপসমূহ:
- eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে যান
- অ্যাকাউন্ট খুলুন (নতুন হলে নিবন্ধন করুন)
- লগইন করুন ও যাত্রার তারিখ, রুট, ক্লাস নির্বাচন করুন
- সিট সিলেক্ট করে পেমেন্ট করুন (Bkash/Nagad/Card)
- ই-টিকিট ডাউনলোড করুন বা মেইলে রেখে দিন
সময়: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়২. অ্যাপ দিয়ে টিকিট কাটা (Rail Sheba App)
অ্যাপটি ব্যবহার করে মোবাইল থেকেই কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট কিনতে পারেন। Google Play Store বা App Store থেকে ডাউনলোড করে নিতে হবে।
৩. রেলস্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা
যারা অনলাইন পছন্দ করেন না বা টেকনিক্যাল ঝামেলা এড়াতে চান, তারা ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন বা সার্কুলার রোড স্টেশন থেকে সরাসরি টিকিট কিনতে পারেন।
সিক্রেট টিপস – টিকিট পাওয়ার গোপন কৌশল১. টিকিট রিফ্রেশ টাইম জানুন
অনলাইনে অনেকে জানেন না যে *সকাল ৮টা, রাত ১২টা, এবং মাঝে মাঝে *রাত ১টার দিকে* সিস্টেমে বাতিল হওয়া টিকিটগুলো রিফ্রেশ হয়। আপনি যদি এই সময়গুলোতে চেষ্টা করেন, তাহলে অনেক সময় টিকিট মিলে যায়।
২. ট্রিকি তারিখ সিলেক্ট করুন
সাপ্তাহিক অফিস ছুটির একদিন আগে/পরে বা কাজের দিনের ট্রেন বেশি খালি থাকে। যেমন মঙ্গলবার বা বুধবারের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৩. আগেভাগে রেজিস্ট্রেশন করুন
অনলাইন সাইটে লগইন করে আগে থেকেই প্রোফাইল তৈরি করুন। যেদিন টিকিট রিলিজ হবে, সেদিন শুধু লগইন করে দ্রুত বুকিং দিতে পারবেন।
৪. একাধিক ডিভাইসে চেষ্টা করুন
মোবাইল + ল্যাপটপ উভয় দিয়ে চেষ্টা করুন। একাধিক ব্রাউজারে লগইন রাখুন (Chrome + Firefox)। এতে সার্ভার জ্যাম হলেও একটিতে কাজ হতে পারে।
৫. রাত ১২টার পরে চেক করুন (Last-minute release)
অনেক যাত্রী টিকিট কেটে ক্যানসেল করে। এই টিকিটগুলো রাত ১২টার পর রিলিজ হয়। এই সময় আবার টিকিট বুক করতে পারেন।
৬. ট্রেনের স্টপেজ গন্তব্য পরিবর্তন কৌশল
আপনি যদি সরাসরি ঢাকা → কক্সবাজার না পান, তাহলে চেষ্টা করুন ঢাকা → চট্টগ্রাম, এরপর চট্টগ্রাম → কক্সবাজার সেগমেন্ট হিসেবে টিকিট কেটে নিন। এইভাবে আলাদা আলাদা করে টিকিট মিলতে পারে।
আরও কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
বিকাশ/নগদে ব্যালেন্স রাখুন আগেই: পেমেন্টের সময় নেট সমস্যা হতে পারে, তাই আগেই প্রস্তুত থাকুন।
SMS কনফার্মেশন সেভ করুন: টিকিট কনফার্ম হলে SMS/Email-এর স্ক্রিনশট রেখে দিন।
ক্যাপচা ফাস্ট পূরণ করুন: সাইটে সময় নষ্ট হয় ক্যাপচায়, তাই কপি-পেস্টে নয়, টাইপ করতে অভ্যস্ত হন।
যাত্রার আগে যা যা মাথায় রাখবেন
- ট্রেনের সময়সূচি চেক করুন (বদলাতে পারে)
- ১ ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছান
- ই-টিকিটের প্রিন্ট না লাগলেও, ভ্যালিড আইডি কার্ড সঙ্গে রাখুন
অনেকেই যে ভুলগুলো করেন (এড়িয়ে চলুন)
শেষ মুহূর্তে টিকিট খোঁজে শুরু করা
শুধু একটি মাধ্যম ব্যবহার করা (শুধু অ্যাপ বা শুধু ওয়েবসাইট)
আইডি মিসম্যাচ হওয়া (নাম, NID ভুল দিলে সমস্যা হতে পারে)
সঠিক ক্লাস সিলেক্ট না করা (এসি/শোভন বিভ্রান্তি)ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনে ভ্রমণ: সময়সূচি ও ভাড়ার বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন!
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে এখন আরও সহজ ও আরামদায়ক! বর্তমানে এই রুটে চলাচল করছে দুটি আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন — কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস। নিচে সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
কক্সবাজার এক্সপ্রেসঢাকা → কক্সবাজার
প্রস্থান: রাত ১০:৩০
পৌঁছানো: ভোর ৬:৪০
যাত্রাবিরতি: বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম
সাপ্তাহিক বন্ধ: সোমবারকক্সবাজার → ঢাকা
প্রস্থান: দুপুর ১২:৪০
পৌঁছানো: রাত ৯:১০
সাপ্তাহিক বন্ধ: মঙ্গলবার
পর্যটক এক্সপ্রেসঢাকা → কক্সবাজার
প্রস্থান: ভোর ৬:১৫
পৌঁছানো: বিকাল ৩:০০
যাত্রাবিরতি: বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম
সাপ্তাহিক বন্ধ: রবিবারকক্সবাজার → ঢাকা
প্রস্থান: রাত ৮:০০
পৌঁছানো: ভোর ৪:৩০
টিকিট মূল্য (প্রতি যাত্রী):শোভন চেয়ার: ৬৯৫ টাকা
স্নিগ্ধা: ১,৩২৫ টাকা
এসি সিট: ১,৫৯০ টাকা
এসি বার্থ: ২,৩৮০ টাকা
ভ্রমণের আগে সময়সূচি ও ভাড়া যাচাই করে নিন, কারণ তা পরিবর্তন হতে পারে।ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে যাওয়া এখন অনেক বেশি সহজ, যদি আপনি সঠিক সময় এবং কৌশলে টিকিট কাটতে পারেন। দিন শেষে শুধু সফটওয়্যারে চোখ রাখলেই হবে না — একটু বুদ্ধি, একটু প্রস্তুতি, আর সময়ের সাথে খেলা জানলেই আপনি হয়ে উঠবেন একজন ‘স্মার্ট ট্রেন ট্রাভেলার’।
এই আর্টিকেলের টিপসগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার কক্সবাজার ভ্রমণকে করতে পারেন নির্ঝঞ্ঝাট ও আনন্দদায়ক। তাই আর দেরি না করে আজ থেকেই প্রস্তুতি নিন!

