ঢাকার কাছেই অবস্থিত নরসিংদীর এই জনপ্রিয় বিনোদন পার্ক — Dream Holiday Park — একটি আদর্শ ছুটি‑কেন্দ্র। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে ভালো সময় কাটাতে চাইলে এই পার্ক হতে পারে এক চমৎকার অপশন। পরিবার, বন্ধু বা শিশুসহ গ্রুপ যেকোনো ধরনের সফরের জন্যই এখানে রয়েছে বিভিন্ন রাইড, ওয়াটার পার্ক, সবুজ পরিবেশ এবং খোলা বাতাসে বিশ্রামের সুযোগ। আর সবচেয়ে ভালো বিষয়—ঢাকা থেকে নরসিংদী যাত্রা বেশ সুবিধাজনক।
নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে এক দিন: যেভাবে যাবেন, কত খরচ হবে ও কেমন হবে অভিজ্ঞতা”
কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে নরসিংদী যাত্রা অত্যন্ত সহজ। ঢাকা‑সিলেট হাইওয়ে ব্যবহার করে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ি সড়ক পথে করে যাওয়া যায়। বাসে গেলেও প্রায় ৫০‑৬০ কিলোমিটার পথ পার হতে হয়, যা সাধারণ পরিস্থিতিতে ১–১.৫ ঘণ্টার মধ্যে করা সম্ভব। বাসস্ট্যান্ড থেকে নরসিংদীর সদর বা পচডোনা (চৈতাবো) উপজেলা হয়ে Dream Holiday Park‑এ পৌঁছানো যায় গাড়িতে বা সিএনজি‑তে। পার্কের ঠিকানা হল “Chaitabo, Pachdona, Dhaka‑Sylhet Highway, Narsingdi” যাত্রাপথ ভালো থাকলে সকাল সময় বা দুপুরের আগেই পৌঁছানো সম্ভব, এবং পুরো দিন পার্ক‑ভ্রমণ উপভোগ করা যায়।
এন্ট্রি ফি ও খরচDream Holiday Park‑এর এন্ট্রি ফি বেশ নির্ধারিত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি জনে ৳৩৫০ (Vat সহ) এবং শিশুদের জন্য প্রতি জনে ৳২৫০ (Vat সহ) এছাড়া রাইড এবং ওয়াটার পার্কের খরচ আলাদা হতে পারে — যেমন ওয়াটার পার্কে প্রবেশ প্রায় ৳৩৫০, কিছু রাইডের জন্য প্রতি রাইডে ৳৬০–১১০ টাকা খরচা হয়। [1] যদি পুরো পরিবার বা গ্রুপ নিয়ে যান, তাহলে পার্কে খরচ মোটামুটিভাবে হিসাব করে নিতে পারেন — এন্ট্রি + রাইড + খাবার + যাতায়াত মিলিয়ে।
নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে রয়েছে নানা ধরণের চমকপ্রদ রাইড ও অ্যাক্টিভিটি, যা ছোট-বড় সকল বয়সী ভ্রমণপ্রেমীদের আনন্দ দেয়। এখানে সময় কাটানো শুধু বিনোদনের নয়, বরং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতারও বিষয়।
প্রধান রাইড ও আকর্ষণসমূহ:১. ওয়াটার পার্ক (Water Park):
সবচেয়ে জনপ্রিয় অংশ এটি। গরমের দিনে সবার প্রিয় ওয়াটার স্লাইড, ওয়েভ পুল, কিডস ওয়াটার জোন এবং রেইন ডান্স জোন মিলিয়ে পুরো পরিবার মিলে ভিজে মজা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২. বাম্পার কার (Bumper Car):
ছোট-বড় সবার জন্য একটি মজার রাইড। একে অপরের গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে খেলার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও মজাদার করে তোলে।
৩. ট্রেন রাইড:
পুরো পার্ক ঘুরে দেখার জন্য মিনি ট্রেন রাইড রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এটি খুব প্রিয়।
৪. সুইং চেয়ার ও ফ্লাইং ডিস্ক:
উঁচুতে উঠে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরা সুইং রাইড বা ফ্লাইং ডিস্ক অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য। কিছুটা ভয় আর রোমাঞ্চ দুটোই মেলে এতে।
৫. ভূতের বাড়ি (Horror House):
একটি অন্ধকার, ভয়াবহ থিমে সাজানো রাইড যা তরুণদের মাঝে ভয়ের মধ্যেও মজা এনে দেয়।
৬. কিডস রাইডস:
বাচ্চাদের জন্য রয়েছে merry-go-round, baby train, ছোট roller coaster, স্লাইড ও বাউন্সিং কাসল। শিশুদের নিরাপত্তা ও আনন্দ দুটোই নিশ্চিত করা হয়।
৭. ফান হাউস এবং থ্রি-ডি সিনেমা (3D Theater):
চোখ ধাঁধানো 3D movie experience, যেখানে দর্শকরা নতুন ধরণের বাস্তব অনুভূতির সিনেমা দেখতে পারে।
৮. মিনি চিড়িয়াখানা ও কৃত্রিম লেক:
রাইড ছাড়াও পরিবারসহ বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কৃত্রিম লেক ও কিছু পাখি-পশুর ভাস্কর্য বা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে হেঁটে সময় কাটানো যায়।
এই রাইডগুলো পার্কে গিয়ে সরাসরি উপভোগ করতে হয়। প্রত্যেকটি রাইড নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। তাই, একটি পারফেক্ট পারিবারিক দিন কাটানোর জন্য ড্রিম হলিডে পার্কে এই রাইডগুলো আপনার ভ্রমণকে আনন্দময় করে তুলবে নিশ্চিতভাবেই।
সুবিধাসমূহ Paradise যেমন একটি পার্কের সবান্নবিধ সুবিধা এখানে রয়েছে: বিভিন্ন *রাইড ও অ্যাট্র্যাকশন* যেমন বাম্পার কার, স্নেক রাইড, ওয়াটার স্লাইড, সুইং চেয়ার, ডেমো ট্রেন, ও শিশুদের জন্য সেট‑আপ। [1] পার্কটির পরিবেশ অনেকটা পাহাড়ি সবুজ অঞ্চলের মতো, যা ভ্রমণকে করে তোলে একটু বিশ্রামময় এবং আনন্দঘন। এছাড়া পরিবার সহ যাওয়া হলে খোলা জায়গায় ঘোরাঘুরার সুযোগ রয়েছে, শিশুরা নিরাপদে খেলতে পারে।
অসুবিধাগুলো তবে কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলি ভ্রমণকারীদের খেয়াল রাখা ভালোঃ
- জনপ্রিয় সময় বা ছুটির দিনে পার্কে ভিড় হয় — তাই সকালবেলা দ্রুত যাওয়া ভালো। [1]
- কিছু রাইড বা সেবা অপেক্ষারত থাকতে পারে — বিশেষ করে দুপুরে।
- খাবার বিকল্প ও রেস্টুরেন্ট সংখ্যাও অনেক বেশি নয় — নিজে কিছু হালকা খাবার বা পানি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
- যাতায়াতের সময় সড়ক‑কনডিশন ও ট্রাফিকের কারণে সময় বেশি লাগতে পারে।
মন্তব্য ও রিভিউগেস্টদের অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। একটি রেটিং সাইটে দেখা গেছে: “Amusement rides: Enjoy exciting rides and attractions for all ages” এবং “Family‑friendly: Ideal destination for family outings and picnics.”
অন্যটি বলছে: “Beautiful landscapes: Stroll through well‑maintained gardens and green areas.”] এসব মন্তব্য নির্দেশ করে পার্কটি শুধু রাইড নয়, পুরো পরিবেশ দিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম।
কখন ও কীভাবে সবচেয়ে ভালো সময় সাধারণত বর্ষার পরবর্তী সময় বা শীতকালের মাঝামাঝি সময় (নভেম্বর‑ফেব্রুয়ারী) এই ধরনের আউটডোর পার্কের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে স্থানটি খোলা আকাশে অবস্থিত, সুতরাং রোদ বা বৃষ্টির সময়ে যাত্রার পরিকল্পনায় একটু নমনীয়তা রাখতে হবে। যাত্রার আগে পার্কের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ দেখে সময়সূচি, অফার ও অবস্থা যাচাই করা ভালো।
Dream Holiday Park কক্সবাজার বা রাঙ্গামাটি নয়—এটি ঢাকা থেকে খুব ভালোভাবে যাওয়া যায় এমন একটি বিকল্প‑ভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র। আপনি যদি দিনভর সময় কাটাতে চান ঘোরাঘুরি, রাইড ও সবুজ পরিবেশে—তবে এই পার্ক তিন‑চার ঘণ্টার মধ্যেও ভালোভাবে পরিদর্শন করা সম্ভব। তবে শুধু রাইড নয়—পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে এক‑সাথে ঘুরে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি ভালো ঠিকানা।
চূড়ান্তভাবে বললে, যেখানে বাজেট বিবেচনায় রাখতে হয়, সেখানে এখনো এই পার্কে এন্ট্রি ফি, রাইড খরচ ও পরিবেশ ভালো সমন্বয়ে রয়েছে। ৳৩৫০ মাত্র এন্ট্রি দিয়ে পুরো পার্ক‑অ্যাক্সেস পাওয়া যায়—যেটি তুলনায় অনেক জায়গায় বেশি। রাইডের খরচ আলাদা হলেও আপনার পরিকল্পনা যদি আগেই থাকে, তাহলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ।
পরিকল্পনা শুরু করার আগে কিছু স্মারক বিষয় মাথায় রাখুন: রাইড লিস্ট পড়ুন, যাত্রার সময় নির্ধারণ রাখুন, খাবারের খরচ‑মান যাচাই করুন এবং নিশ্চিত করুন পার্কে থাকাকালীন নিরাপত্তা‑ব্যবস্থা ভালো। এমনভাবে যাওয়া হলে আপনি শুধু এক পার্ক‑ট্রিপ নিয়ে ফিরে আসবেন না—বরং একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসবেন।
আপনার ভ্রমণ হোক সুরক্ষিত, আনন্দঘন ও স্মরণীয়—এমন এক দিন কাটুক Dream Holiday Park‑এ। ভালো সময় কাটুন, হাসুন, রাইড করুন আর ঘুরুন। পরবর্তী ভ্রমণ গাইড‑আর্টিকেলে ফিরে আসুন। 


