কক্সবাজারের ভ্রমণ মানেই সমুদ্রের ঢেউ, লবণাক্ত বাতাস আর নির্ভেজাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আর এই সৌন্দর্যের ঠিক মাঝখানে যাদের থাকার জন্য একটি সাশ্রয়ী, পরিচ্ছন্ন এবং সি-বিচ সংলগ্ন হোটেল দরকার, তাদের জন্য Hotel Sea Moon হতে পারে দারুণ এক পছন্দ। এই হোটেলটি সমুদ্র সৈকতের খুব কাছাকাছি, লাবণি পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এটি বহু পর্যটকের প্রথম পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
কিভাবে যেতে হবে?
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে চাইলে আপনি কয়েকটি বিকল্প ব্যবহার করতে পারেন।
বাসে: গাবতলী, সায়েদাবাদ, কমলাপুর, ফকিরাপুল থেকে Shyamoli, Hanif, Saint martin Paribahan ইত্যাদি বাসে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়।
ট্রেনে: চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে বাসে বা মাইক্রোতে কক্সবাজার যেতে পারেন।
বিমানে: সবচেয়ে দ্রুত অপশন। ঢাকা থেকে নভোএয়ার, ইউএস বাংলা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট চালায়।
কক্সবাজার শহরে পৌঁছানোর পর অটো/সিএনজি অথবা ট্যাক্সিতে করে সহজেই Hotel Sea Moon–এ পৌঁছানো যায়, যেটি কলাতলী রোড সংলগ্ন লাবণি এলাকায় অবস্থিত।
Hotel Sea Moon হোটেলের সার্ভিস সমূহঃ
ওয়েলকাম ড্রিংকস
সকল অতিথিদের জন্য কমপ্লিমেন্টারি বুফে ব্রেকফাস্ট ইনক্লুড
একসাথে ২০ জন উঠানামার জন্য ২ টি লিফট (১টিতে ১০ জন করে)
এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সার্ভিস - চার্জ ৬০০ টাকা (ওয়ান ওয়ে)
রেল স্টেশন ড্রপ সার্ভিস - চার্জ ৭০০ টাকা (ওয়ান ওয়ে)
অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা (ABC, CO2 & Water Hose Pipe)
একসাথে ২০০ জনের অনুষ্ঠান করার মতন কনফারেন্স হল
সালাতের জন্য হোটেলের নিজ্বস্য পাঞ্জেকানা মাস্জিদ
৮০ জনের একসাথে বসে খাবার মতন রেস্তোরাঁ
২৪/৭ সম্পূর্ণ হোটেল CCTV দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
অটো Fire & Sound Alarm সিস্টেম
২৪/৭ স্ট্যান্ড বাই জেনারেটর সার্ভিস
২৪/৭ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন ডিশ সংযোগ
২৪/৭ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ
আধুনিক সুসজ্জিত অভ্যর্থনা কক্ষ
২৪/৭ নিরবিচ্ছিন্ন Wi-Fi সুবিধা
অটো পাঞ্চকার্ড দরজা
অতিথি লাগেজ লকার
২৪/৭ ঘন্টা নিরাপত্তা
গাড়ি পার্কিং সুবিধা,
২৪/৭ রুম সার্ভিস
মিনি সুইমিং পুল
হোটেল এর আশে-পাশে ঘুরতে যাওয়ার জন্য হোটেল এর নিজ্বস্য গাড়ি ভাড়া নেয়ার সু বেবস্থা। রুম কোয়ালিটি ও ফ্যাসিলিটি
Hotel Sea Moon এ মোটামুটি বিভিন্ন ধরনের রুম রয়েছে — সিঙ্গেল, ডাবল, ট্রিপল এবং ফ্যামিলি রুম।
রুমের বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিটি রুমে রয়েছে বেসিক আসবাব, এটাচ বাথরুম, কোল্ড-হট ওয়াটার সুবিধা, ফ্যান/এসি, টিভি।
- কিছু রুমে ব্যালকনি থেকে সৈকতের হালকা ঝলক দেখা যায়।
- ফ্যামিলি রুমগুলো তুলনামূলক বড় এবং পরিষ্কার।
- রুম সার্ভিস, ডেইলি হাউসকিপিং, রিসেপশন সার্ভিস মোটামুটি ভালো মানের।
বেশিরভাগ পর্যটকের রিভিউ অনুসারে, হোটেলটি ক্লিন, বাজেট-ফ্রেন্ডলি এবং লোকেশন ভালো—তবে বিলাসবহুল নয়। তাই যারা স্বল্প খরচে সি-বিচের খুব কাছাকাছি থাকতে চান, তাদের জন্য এটি পারফেক্ট।
ভাড়া কত?
Hotel Sea Moon–এর রুম রেট মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
প্রায় ভাড়ার সীমা (প্রতি রাত):
- সিঙ্গেল রুম: ৮০০–১২০০ টাকা
- ডাবল রুম: ১২০০–২০০০ টাকা
- ট্রিপল/ফ্যামিলি রুম: ২০০০–৩৫০০ টাকা
অফ-সিজনে কিছু ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে পারে, আর অন-সিজনে (ডিসেম্বর–জানুয়ারি, ঈদ, পুজা) ভাড়া বেড়ে যায়।
হোটেল বুকিং এর জন্য সরাসরি ফোন করলে কিছু ছাড় পাওয়া যেতে পারে। Agoda, Booking.com এর মাধ্যমে অগ্রিম বুকিং সুবিধাও রয়েছে।
তাই দেরি না করে আজই নিশ্চিত করুন আপনার পছন্দের রুম 

রুম ট্যারিফ অফার (ন্যূনতম ২ রাতের জন্য)
৩–৭ তলা ➤
৳500 ছাড়
৯–১২ তলা ➤
৳900 ছাড়
রাত যত বাড়বে, ছাড় তত বাড়বে!
যেমন —
৩ রাত থাকলে:
নিচতলায় ➤
৳750 ছাড়
উপরের তলায় ➤
৳1350 ছাড় 
বুকিং ও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
Hotel Sea Moon, Cox’s Bazar পেজ / গ্রুপেHotel Sea Moon এর ভালো দিক
- লোকেশন: কক্সবাজার সৈকতের একদম কাছে, তাই হেঁটে লাবণি বিচে যাওয়া যায়।
- বাজেট ফ্রেন্ডলি: কম খরচে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার সুযোগ।
- পরিচ্ছন্নতা: স্টাফরা নিয়মিত রুম পরিষ্কার রাখে।
- সার্ভিস: রিসেপশন ও রুম সার্ভিস মোটামুটি ভালো, দ্রুত রেসপন্স দেয়।
কিছু দুর্বল দিক
- অত্যন্ত ব্যস্ত সময়ে রুম খালি না থাকার ঝুঁকি, তাই আগে বুকিং করা ভালো।
- বিলাসবহুল কোনো অভিজ্ঞতা আশা করলে হতাশ হতে পারেন।
- লিফট নেই, তাই বয়স্কদের জন্য ৩য় বা ৪র্থ তলায় ওঠা কঠিন হতে পারে।
যারা কক্সবাজারে সাশ্রয়ী খরচে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রুম এবং সৈকতের একদম কাছে থাকতে চান—Hotel Sea Moon তাদের জন্য উপযুক্ত একটি হোটেল। পরিবার, বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ কিংবা একা ভ্রমণকারীদের জন্যও এই হোটেলটি হতে পারে একটি ভালো পছন্দ। তবে অনলাইনে বা ফোনে আগেই বুকিং নিশ্চিত করে যাওয়াটাই ভালো। কক্সবাজারের ঝকঝকে রোদ, নীল জলরাশি আর হালকা বাতাসের মাঝে Hotel Sea Moon আপনাকে দেবে নির্ভার এক রাত কাটানোর জায়গা।

