সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের গর্বই নয়, এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। এই অরণ্যের মাঝে প্রকৃতির নীরব ডাক শোনার সুযোগ এনে দিয়েছে "ইরাবতী ইকো রিসোর্ট"। যাঁরা নীরবতা, প্রকৃতি এবং পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের স্বাদ নিতে চান, তাঁদের জন্য ইরাবতী ইকো রিসোর্ট হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানব ইরাবতী ইকো রিসোর্টের অবস্থান, সুবিধা, রুম কোয়ালিটি, খরচ এবং ভ্রমণ টিপস—সবকিছু।
অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা
ইরাবতী ইকো রিসোর্ট অবস্থিত খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায়, শিবসা নদীর তীরে। এখান থেকে সরাসরি সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশ যেমন হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলার চর ইত্যাদি অল্প সময়েই ভ্রমণ করা যায়।
ঢাকা থেকে যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে খুলনা যেতে পারবেন বাস, ট্রেন বা বিমান পথে। এরপর খুলনা শহর থেকে গাড়ি বা বোটে করে প্রায় ১.৫ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যায় রিসোর্টে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে ট্রান্সপোর্টের সহায়তাও করে থাকে।
পরিবেশ ও রিসোর্টের বৈশিষ্ট্যইরাবতী ইকো রিসোর্ট সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব উপায়ে গড়ে তোলা হয়েছে। রিসোর্টটি কাঠ, বাঁশ এবং টিনের সমন্বয়ে তৈরি, যাতে বনভূমির প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট না হয়। এখানে থাকার সময় মনে হয় আপনি একেবারে প্রকৃতির সাথে মিশে গেছেন। সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা কিংবা সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙা – এই অভিজ্ঞতা শহরের জীবনে অসম্ভব।
খাবার ও রেস্টুরেন্ট সুবিধারিসোর্টের নিজস্ব একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে ফরমায়েশ অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। মূলত দেশি খাবার (ভাত, মাছ, মাংস, ডাল, সবজি) পরিবেশন করা হয়। সুন্দরবনের কাঁকড়া বা চিংড়ির ঝাল রান্না খুব জনপ্রিয়।
খাবারের খরচ আলাদা এবং প্রতি বেলায় গড় খরচ ২৫০–৫০০ টাকা।
সুবিধাসমূহ- প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি থাকার সুযোগ
- ট্যুর প্যাকেজ (বোটে করে সুন্দরবন ভ্রমণ)
- পরিবেশবান্ধব নির্মাণ
- ফ্রি Wi-Fi (সীমিত), সোলার পাওয়ার
- নিরাপত্তা ও লোকাল গাইড সুবিধা
- কর্পোরেট টিম বিল্ডিং/ফ্যামিলি প্যাকেজ
কিছু সীমাবদ্ধতা- বিদ্যুৎ নির্ভর করে সোলার প্যানেলের উপর, তাই সব সময় ফ্যান বা চার্জিং সুবিধা সীমিত হতে পারে শহরের বিলাসবহুল হোটেল সুবিধার আশা করা উচিত নয়
- মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হতে পারে কিছু জায়গায়
রিভিউ ও অভিজ্ঞতারিসোর্টে যাঁরা গেছেন, তাঁদের বেশিরভাগই রিভিউ দিয়েছেন ইতিবাচক। কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটক অভিমত:
“সকালবেলার হাওয়ার সঙ্গে সুন্দরবনের ঘ্রাণ মেশানো, আর এর মাঝেই এক কাপ চা – এটা লাইফটাইম মেমোরি।”
“বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ এবং পরিবারের জন্য দারুণ আয়োজন।”
“খুব বেশি বিলাসিতা নেই, কিন্তু শুদ্ধ প্রকৃতির মাঝে নিঃশব্দে সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট।”
কাদের জন্য উপযুক্ত?- যারা পরিবেশবান্ধব ট্রাভেল পছন্দ করেন
- পরিবার নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান
- ভ্রমণপ্রেমী যাঁরা ন্যাচার ট্রেইল ও বন্যপ্রাণী ভালোবাসেন
- টিম আউটিং, কর্পোরেট অফসাইট বা প্রাকৃতিক ফটোগ্রাফাররা
ইরাবতী ইকো রিসোর্ট কোনো সাধারণ হোটেল নয়—এটা এক অভিজ্ঞতা। সুন্দরবনের ঠিক সীমানায় বসে আপনি যেমন বিশ্রাম নিতে পারেন, তেমনই নদীপথে প্রবেশ করতে পারেন ম্যানগ্রোভের গহীনে। প্রকৃতির যত্ন নিয়ে গড়ে ওঠা এই রিসোর্ট কেবল থাকার জায়গা নয়, বরং প্রাকৃতিক ট্যুরিজমের এক সফল উদাহরণ।
আপনি যদি ব্যস্ত শহরের জীবন থেকে একটুখানি প্রকৃতির আলিঙ্গনে হারিয়ে যেতে চান, তাহলে ইরাবতী ইকো রিসোর্ট হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের গন্তব্য। সুন্দরবনের নৈঃশব্দ্যে হারিয়ে যেতে তৈরি তো? এখনই প্ল্যান শুরু করুন!
ইরাবতী স্পেশাল প্যাকেজ – মাত্র ২২৫০ টাকা থেকে শুরু !
বর্ষার মেঘে মেঘে রোমাঞ্চ আর প্রকৃতির রঙে রঙিন হয়ে উঠুক ছুটির দিনগুলো!
এক রুমে ৪ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি- ইকোনোমি রুম) : ২২৫০ টাকা।
এক রুমে ৪ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি- প্রিমিয়াম রুম) : ৩০০০ টাকা।
এক রুমে ৩ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি-ইকোনোমি রুম) : ২৬৫০ টাকা।
এক রুমে ৩ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি- প্রিমিয়াম রুম) : ৩৩৫০ টাকা।
এক রুমে ২ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি-ইকোনোমি রুম ) : ৩৫৫০ টাকা।
এক রুমে ২ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি-প্রিমিয়াম রুম) : ৪৫০০ টাকা।
ইকোনমি রুমে একা থাকলে ৫২০০ টাকা।
প্রিমিয়াম রুমে একা থাকলে ৭০০০ টাকা।
ডুপ্লেক্স কটেজে ৬ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৩০০০ টাকা।
ডুপ্লেক্স কটেজে ৫ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৩৩০০ টাকা।
ডুপ্লেক্স কটেজে ৪ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৩৮০০ টাকা।
ডুপ্লেক্স কটেজে ৩ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৪৫০০ টাকা।
ডুপ্লেক্স কটেজে ২ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৫৫০০ টাকা।
ডুপ্লেক্স কটেজে একা থাকতে চাইলে ১০০০০ টাকা।
সেমি -ডুপ্লেক্স কটেজে ৬ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ২৯০০ টাকা।
সেমি -ডুপ্লেক্স কটেজে ৫ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৩২০০ টাকা।
সেমি -ডুপ্লেক্স কটেজে ৪ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৩৬০০ টাকা।
সেমি -ডুপ্লেক্স কটেজে ৩ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৪০০০ টাকা।
সেমি -ডুপ্লেক্স কটেজে ২ জন থাকলে খরচ ( জনপ্রতি) : ৫০০০ টাকা।
সেমি ডুপ্লেক্স কটেজে একা থাকতে চাইলে ১০০০০ টাকা।
প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত যা যা থাকবে :
দুপুর ১২:৩০ এ মংলা থেকে রিসোর্টে আসার শেয়ারিং বোটের খরচ। রিসোর্টে পৌঁছাতে ২ টা নাগাদ বেজে যাবে...
ইরাবতী রিসোর্টে ১ রাত থাকার খরচ।
লাঞ্চ + ডিনার +ব্রেকফাস্ট এই ৩ বেলা খাবার খরচ।
ডিঙ্গি নৌকায় ১ ঘন্টা ভ্রমণের খরচ।
সকাল ১১ টায় চেক আউটের পর রিসোর্ট থেকে মংলা যাওয়ার শেয়ারিং বোটের খরচ। সাধারণত.. মোংলা পৌঁছাতে ১-১:৩০ বেজে যায়। বিশেষ দ্রষ্টব্য :- সরকারি নির্দেশক্রমে উপরে উল্লিখিত প্যাকেজ কস্টের সাথে ৭.৫% মূল্য সংযোজন কর আরোপিত হবে।
সুন্দরবন – এক নামে চেনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। যেখানে প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দে, নিরবে কাব্য লেখে। বাংলাদেশের গর্ব এই অরণ্য শুধু একটি পর্যটন গন্তব্যই নয়, বরং এটি একটি জীববৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এক বিস্ময়। আর এই সুন্দরবনের ঠিক দোরগোড়ায় গড়ে উঠেছে একটি পরিবেশবান্ধব, নিরিবিলি, আধুনিক এবং মনোরম রিসোর্ট – *ইরাবতী ইকো রিসোর্ট*।
এই রিসোর্টটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে যাঁরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে একটু নিরব বিশ্রাম খুঁজছেন। ইরাবতী ইকো রিসোর্টে আপনি শুধু আরামদায়ক রুমেই থাকবেন না, বরং প্রতিটি মুহূর্তে উপভোগ করবেন প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের মেলবন্ধন।
বর্তমানে "Eco-tourism" বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিশ্বজুড়েই গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের মধ্যে যেসব রিসোর্ট এই উদ্যোগে সবচেয়ে সফল, ইরাবতী তাদের শীর্ষে। বাঁশ, কাঠ, ছন, টিনের মাধ্যমে তৈরি কটেজগুলো শুধু নজরকাড়া নয়, এগুলোর মাধ্যমে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবও অনেকাংশে কমানো হয়েছে।
বর্তমান সময়ে ট্র্যাভেলিং শুধু "ঘোরা" নয়, বরং সেটি হয়ে উঠেছে একধরনের "সেলফ হিলিং" প্রক্রিয়া। ইরাবতীর মতো রিসোর্টগুলো যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষিত রেখেই পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করে, সেগুলোই ভ্রমণপিপাসুদের আসল গন্তব্য হওয়া উচিত।
এখানকার গাইডেড ট্যুর, নৌবিহার, স্থানীয় সংস্কৃতি দেখা, এবং বনজীবনের স্বাদ নেওয়ার সুযোগগুলো আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে অর্থবহ। যাঁরা শিশুসহ পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যেতে চান, তাঁদের জন্যও এটি একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত জায়গা।
আরও বড় বিষয় হলো, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে। ফলে আপনি এখানে থেকে যেমন প্রকৃতি উপভোগ করবেন, তেমনি অবদান রাখবেন টেকসই পর্যটনের পেছনেও। আপনি যদি ট্র্যাভেল ব্লগার হন, কিংবা একজন ন্যাচার লাভার – ইরাবতী ইকো রিসোর্ট হতে পারে আপনার কনটেন্টের দারুণ উপাদান। এখানকার দৃশ্য, পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভালোমানের ফটোগ্রাফিক আর্টিকেল বা ভিডিও ডকুমেন্টারি করাও সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, আপনি যদি সত্যিই একটু আলাদা পরিবেশ, শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে একটা গভীর সংযোগ চান – তাহলে একবার হলেও ইরাবতী ইকো রিসোর্টে ঘুরে আসুন। আপনি ফিরবেন কেবল কিছু স্মৃতি নিয়েই নয়, বরং এক নতুন আত্মিক প্রশান্তি নিয়ে।
সুন্দরবনের বুকে এই ইকো রিসোর্টটি যেন আপনার পরবর্তী ভ্রমণের সেরা অধ্যায় হয়। বুকিং করতে দেরি না করে আজই পরিকল্পনা করুন!
সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে চাইলে, আপনার জন্য উপযুক্ত স্থান বেছে নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানকার পরিবেশ একদমই আলাদা – ঘন জঙ্গল, কাদামাটি, নদী আর বন্যপ্রাণী। আর এ ধরনের পরিবেশে যেসব রিসোর্ট এই অঞ্চলের স্বাভাবিকতা রক্ষা করে, সেগুলোর মধ্যে ইরাবতী ইকো রিসোর্ট সবচেয়ে নিখুঁতভাবে টিকে আছে। এখানে থাকার সময় আপনি হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির শব্দে। সূর্যোদয়ে নদীর হালকা ঢেউয়ের ছোঁয়া, সন্ধ্যার নিঃশব্দতা, রাতের তারাভরা আকাশ – সব কিছু যেন একটি জীবন্ত পেইন্টিংয়ের মতো। যারা কংক্রিটের শহরে হাঁপিয়ে উঠেছেন, তাঁদের জন্য ইরাবতী এক ধরনের থেরাপি।
আপনি যদি Google-এ "সুন্দরবনের সেরা রিসোর্ট", "Sundarbans eco resort", "Iravati Eco Resort review", বা "সুন্দরবনে থাকার জায়গা" এর মতো কিওয়ার্ড সার্চ করেন, আপনি সহজেই এই রিসোর্ট সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং খুঁজে পাবেন প্রচুর ইতিবাচক অভিজ্ঞতা।
শেষ পর্যন্ত বলতে গেলে, ইরাবতী ইকো রিসোর্ট শুধু একটি থাকার জায়গা নয় – এটি একটি ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, যা আপনার স্মৃতিতে দীর্ঘদিন রয়ে যাবে। আপনি যেভাবে প্রকৃতির মাঝে থেকে নিজের সময় কাটাতে চান, এখানকার প্রতিটি কোণা সেই আবহ তৈরি করে দেয়।


