কক্সবাজারের পালংকি হোটেল কেবল থাকার জায়গা নয়—এটি এখন ভ্রমণপ্রেমী ও ফুড লাভারদের জন্য একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতার নাম। কক্সবাজারের কলাতলী রোড থেকে অতি কাছেই অবস্থিত এই হোটেলটি তার আধুনিক স্থাপনা, প্রিমিয়াম সার্ভিস ও দৃষ্টিনন্দন অভ্যন্তরীন সাজসজ্জার কারণে খুব কম সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এখানকার রুফটপ ভিউ, সমুদ্রের নিকটবর্তী লোকেশন এবং বিশ্বমানের সুবিধা ছাড়া আরেকটি বিশেষ কারণ আছে—এর খাবার। পালংকির রেস্টুরেন্ট সেকশন এখন কক্সবাজারের অন্যতম সেরা ডাইনিং স্পট হিসেবেই পরিচিত।
পালংকি হোটেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের বৈচিত্র্যময় ও উচ্চ মানের ফুড মেনু, যেখানে স্থানীয় থেকে শুরু করে কন্টিনেন্টাল, থাই, চাইনিজ—সব ধরনের ফুড আইটেম পরিবেশন করা হয়। পর্যটকদের জন্য বিচভিউ এরিয়া ঘুরে এসে এখানে বসে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা যেন আলাদা তৃপ্তি এনে দেয়। বিশেষ করে ফ্রেশ সি-ফুড, দেশি আইটেম, আর প্রিমিয়াম স্টেক ডিশগুলো স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।
কক্সবাজারে এমন অনেক হোটেল আছে যেখানে থাকার ব্যবস্থা ভালো হলেও খাবারের মান ততটা উল্লেখযোগ্য নয়। কিন্তু পালংকি হোটেল তার ফুড কোয়ালিটি ও ফ্লেভারের জন্য যেভাবে পরিচিতি পেয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। খাদ্যপর্যটকদের জন্য জায়গাটি এখন ‘মাস্ট ভিজিট’ লিস্টে রয়েছে। হোটেলের শেফরা প্রতিটি ডিশ তৈরি করেন বিশেষ যত্নে, যেখানে ব্যবহৃত হয় তাজা উপকরণ এবং নিখুঁত কুকিং টেকনিক। ফলে স্বাদে থাকে একটি আলাদা মৌলিকতা।
এছাড়া রেস্টুরেন্টের পরিবেশ, দ্রুত সার্ভিস, কোয়ালিটি মেইনটেইন, হাইজিন—সব দিক থেকেই পালংকি অন্য হোটেলগুলোর তুলনায় এগিয়ে। এই কারণেই ব্যস্ত মৌসুমে এখানে রিজার্ভেশন পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। ভ্রমণে যারা আরাম, খাবারের স্বাদ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা—এই তিনটির সমন্বয় চান, তাদের জন্য পালংকি হোটেল একটি অসাধারণ গন্তব্য।
পালংকি হোটেলের লোকেশন – দুই শাখার পূর্ণ বিবরণ
১. পালংকি হোটেল – কক্সবাজার শহর (কলাতলী রোড শাখা)পালংকি হোটেলের মূল ও সবচেয়ে জনপ্রিয় শাখাটি অবস্থিত কলাতলী রোডে, সুগন্ধা পয়েন্ট এবং লাবনী বিচের খুব নিকটে। কক্সবাজার শহরের এই লোকেশনটি পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক, কারণ এখান থেকে—
- সুগন্ধা বিচ
- লাবনী বিচ
- বার্মিজ মার্কেট
- শপিং সেন্টার
- রাইড জোন, বিচ অ্যাকটিভিটি স্পট
- সবকিছুই কয়েক মিনিটের দূরত্বে।
শহরের কেন্দ্রে হওয়ায় পরিবহন, খাবার, শপিং ও ট্যুরিস্ট অ্যাক্সেস—সবকিছুই সহজ। পরিবার এবং ফুড লভারদের জন্য এটি আদর্শ একটি জায়গা।
২. পালংকি হোটেল – মেরিন ড্রাইভ রোড শাখাপালংকি হোটেলের আরেকটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শাখা রয়েছে মেরিন ড্রাইভ রোডে, যা সমুদ্রের ঠিক পাশেই অবস্থিত। এই শাখাটি মূলত প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত।
মেরিন ড্রাইভ শাখার বিশেষত্ব:
- একদম সী-বিচ লাগোয়া লোকেশন
- নিরিবিলি, শান্ত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ
- রোমান্টিক ও লাক্সারি ভ্রমণের জন্য উপযোগী
- ফটোজেনিক ব্যালকনি ভিউ
- সূর্যোদয়–সূর্যাস্ত দেখার জন্য দারুণ স্পট
- যারা শহরের ভিড় এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে থাকতে চান, তাদের কাছে মেরিন ড্রাইভ শাখাটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়
কক্সবাজারে অসংখ্য হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থাকলেও পালংকি হোটেল তার খাবারের মান ও স্বাদের কারণে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এখানে যে প্রতিটি খাবার পরিবেশন করা হয়, তাতে থাকে নান্দনিকতা, তাজা উপকরণ এবং নিখুঁত রান্নার ছোঁয়া। নিচে পালংকির ১০টি সেরা ও সর্বাধিক জনপ্রিয় খাবারের বিস্তারিত রিভিউ তুলে ধরা হলো।
১. গ্রিলড প্রন স্পেশাল
পালংকির সিগনেচার ডিশ বলা যায় এটি। কক্সবাজারের তাজা চিংড়ি ব্যবহার করে মশলার নিখুঁত মেরিনেশন করা হয়। গ্রিল করার পর স্বাদ হয় ধোঁয়াটে, জুসি এবং অসাধারণ। সি-ফুড লাভারদের জন্য এটি অবশ্যই ট্রাই করার মতো।
২. বিফ স্টেক উইথ বাটার ভেজিটেবল
হোটেলের অন্যতম প্রিমিয়াম ডিশ। স্টেকটি জুসি, টেন্ডার এবং অপরূপভাবে গ্রিল করা হয়। সঙ্গে থাকে বাটার ভেজিটেবল ও স্পেশাল সস। কক্সবাজারে স্টেক খেতে চাইলে পালংকিরটি প্রথম সারির।
৩. থাই স্যুপ (হট & সাওয়ার)
হালকা ঝাল-টক স্বাদের এই স্যুপটি জ্বর, ক্লান্তি বা ঠাণ্ডায় ভুক্তভোগী ভ্রমণকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক। চিকেন, প্রন বা ভেজিটেবল—যে কোনো বৈচিত্র্যেই পাওয়া যায়।
৪. চিকেন স্টেক উইথ ফ্রাইস
যারা হালকা কিন্তু ফ্লেভারফুল কিছু চান, তাদের জন্য এটি পারফেক্ট। চিকেনটি খুবই নরম এবং সসটি অসাধারণ ব্যালেন্সড। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের ক্রিস্পিনেস খাবারটিকে আরও আকর্ষণীয় করে।
৫. সিজলার (বিফ/চিকেন)
পালংকির সিজলার আলাদা একটি আকর্ষণ। গরম প্যানে সিজলিং শব্দের সাথে পরিবেশনের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট চমৎকার অভিজ্ঞতা দেয়। সিজলারটি জুসি, ফ্লেভারফুল এবং যথেষ্ট পরিমাণে পরিবেশন করা হয়।
৬. ফ্রেশ ফ্রাইড ফিশ
কক্সবাজারে এসে ফ্রেশ মাছ না খেলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ। পালংকির ফ্রাইড ফিশ বাইরে ক্রিস্পি আর ভেতরে নরম। লেবু ও সালাদের সাথে এটি বেশ উপভোগ্য।
৭. চিকেন কোরমা
দেশি খাবারের ক্রেজ যারা রাখেন, তারা পালংকির চিকেন কোরমা ট্রাই করতে পারেন। রিচ গ্রেভির সাথে নরম চিকেন পিস খেতে দারুণ লাগে। পরোটা বা নান রুটির সাথে স্বাদ দ্বিগুণ।
৮. নুডলস উইথ ফ্রেশ ভেজিটেবল
চাইনা ফুডপ্রেমীদের জন্য পালংকির নুডলস একটি ভালো অপশন। নরম নুডলসে থাকে বিভিন্ন সবজি, চিকেন বা প্রন। হালকা তেল-মসলা খাবারটিকে স্বাস্থ্যসম্মত রাখে।
৯. ফ্রাইড রাইস উইথ চিকেন/প্রন
ফ্রাইড রাইসের গ্রেইন আলাদা-আলাদা থাকে, যার সাথে চিকেন বা প্রনের স্বাদ চমৎকারভাবে মিশে যায়। পরিবার বা গ্রুপ নিয়ে গেলে এটি বেস্ট চয়েস।
১০. ডেজার্ট – চিজকেক / ব্রাউনি উইথ আইসক্রিম
খাবারের শেষে হালকা মিষ্টি চাইলে এটি নিখুঁত। চিজকেকটি ক্রিমি ও সিল্কি, আর ব্রাউনি-আইসক্রিম কম্বিনেশন ভ্রমণের ক্লান্তি এক নিমিষে ভুলিয়ে দেয়।
এই ১০টি খাবারই পালংকি হোটেলের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর মূল কারণগুলোর একটি। ভ্রমণপ্রেমীরা বলছেন—কক্সবাজারে এসে পালংকির খাবার না খেলে আসলে অভিজ্ঞতা অসম্পূর্ণই থাকে।
কেন পালংকির লোকেশন এত জনপ্রিয়?দু’টি শাখার মাধ্যমে শহর ও সমুদ্র দুটো অভিজ্ঞতাই পাওয়া যায়
বিচ, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, অ্যাকটিভিটি—সবকিছু সহজলভ্য
মেরিন ড্রাইভ শাখা রোমান্টিক কাপল ট্যুরের জন্য সেরা
শহর শাখা পরিবার, গ্রুপ ও ফুডি পর্যটকদের জন্য উপযোগী
এই অনন্য লোকেশন সুবিধার কারণেই পালংকি কক্সবাজারের অন্যান্য হোটেলের মধ্যে দ্রুত বিশিষ্টতা অর্জন করেছে।
চাইলে আমি এই লোকেশন অংশটি তোমার মূল পোস্টের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই করে আরও এসইও-অপ্টিমাইজডভাবে সাজিয়ে দিতে পারি।
পালংকি হোটেল এখন কক্সবাজারের ভ্রমণ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শুধু থাকা নয়, এখানকার খাবারও ভ্রমণের আনন্দকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। যারা ভালো মানের ফুড অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য এই হোটেলটি হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য একটি নাম। সমুদ্রের কাছে থাকার অনুভূতি, সুন্দর পরিবেশ, হাইজিন মেইনটেইন এবং অসাধারণ ফ্লেভার—সবকিছু মিলে পালংকির রেস্টুরেন্ট সত্যিই অন্যরকম।
এখানে আসা অতিথিরা প্রায় সবাই একমত—পালংকির খাবারের স্বাদ এমনভাবে মনে গেঁথে থাকে যে ফিরে যাওয়ার পরও বারবার মনে পড়ে। অনেকেই কক্সবাজারে বারবার এলে প্রতিবারই পালংকিতে খাওয়ার চেষ্টা করেন। এর কারণ শুধু স্বাদ নয়, বরং এখানে প্রতিটি খাবারে থাকে যত্ন, সৃজনশীলতা ও পেশাদারিত্ব। শেফদের দক্ষতা, স্টাফদের আন্তরিকতা এবং পরিবেশের প্রিমিয়াম ফিল খাবারের অভিজ্ঞতাকে নিখুঁত করে তোলে।
আগে যেখানে খাবারের জন্য পর্যটকরা বিচ এলাকায় বা আলাদা রেস্টুরেন্টে যেতে চাইতেন, এখন অনেকেই সরাসরি পালংকিতেই চলে আসেন। পরিবার, দম্পতি, বন্ধুদের গ্রুপ—সবাইয়ের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ফুড অপশন। এমনকি বাচ্চাদের জন্যও রয়েছে টেস্টি ও হেলদি মেনু।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়—যদি কক্সবাজার ভ্রমণে স্মরণীয় খাবারের অভিজ্ঞতা চান, পালংকি হোটেল অবশ্যই আপনার লিস্টে থাকা উচিত। স্টেক থেকে সি-ফুড, দেশি আইটেম থেকে ডেজার্ট—এখানকার প্রতিটি ডিশই আপনার ভ্রমণকে আরও বিশেষ করে তুলবে।

