মাটি ও কাঠের ছোঁয়ায় প্রকৃতির এক নিবিড় আশ্রয়: টিলাগাও ইকো ভিলেজ!

শহরের হট্টগোল, হাইরে এবং সময়ের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নেওয়ার মুহূর্ত খুঁজছেন? ঢাকা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভ্রমণেই পৌঁছানো সম্ভব একটি জায়গা রয়েছে — টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ। সবুজ পাহাড়, টীলাসমৃদ্ধ চা বাগান, মৃদু হাওয়া আর একান্ত সময় কাটানোর পরিবেশ—এই রিসোর্ট‑টিতে পুরো মন দিলেই পাওয়া যায় প্রশান্তি। মৌলভীবাজার জেলার কামালগঞ্জ উপজেলার মাঝেই এই রিসোর্টটি অবস্থিত, যা সিলেট‑মৌলভীবাজার অঞ্চলের পাহাড়ি সুন্দর পরিবেশের সঙ্গে ঘনভাবে যুক্ত। রিসোর্টটি পরিবেশ‑বান্ধব উপাদানে বানানো কটেজ ও ভিলায় সাজানো হয়েছে, যাতে অতিথিরা আসেন “প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম” অনুভূতি নিয়ে। 

টিলাগাঁও‑এ পৌঁছানোর প্রথম ধাপ শুরু হয় ঢাকা থেকে সিলেট বা মৌলভীবাজার অংশে যাত্রা দিয়ে। সকালবেলায় রওনা দিলে বিকেলের দিকে রিসোর্ট‑এর বারান্দায় হালকা চা নিয়ে দেখা যাবে পাহাড়ের ধারে সূরযস্নানমানের রোদ কখন মেঘে হারিয়ে যাচ্ছে—এটা অভিজ্ঞতার অংশ। রিসোর্ট‑এ পৌঁছে প্রথম যে বিষয়টি নজরে আসে—তা হলো হাওয়ার হালকা নীরবতা এবং কোথাও গুচ্ছানো শোরগোল নেই।
 টিলাগাঁও ইকো ভিলেজে যাওয়া মােনে করা যাওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়—ঠিক পরিকল্পনা করা থাকলেই তাতে রকমারি বাড়তি ঝামেলা হয় না। নিচে দেওয়া হলো যাতায়াত, রুম ভাড়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
নিচে টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ (Tilagaon Eco Village) — মৌলভীবাজার জেলার কামালগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি প্রকৃতি‑ভিত্তিক রিসোর্ট‑ভিত্তিক সার্চমুখী আর্টিকেল দেওয়া হলো। ব্লগ পোস্টের জন্য উপযোগী, ইউনিক ও SEO‑ফ্রেন্ডলি রচনায় রুম ভাড়া, যাতায়াত, রিভিউ, শেষাংশে সারাংশ‑টিপসসহ দেওয়া হয়েছে।

Tilagaon Eco Village

যাতায়াত  
ঢাকা থেকে শুরু করে যাত্রা হয় সাধারণত সিলেট বা মৌলভীবাজার রুট ধরে:  

- ঢাকা → সিলেট বা মৌলভীবাজার বাস/মাইক্রো: সময় লাগতে পারে প্রায় ৫–৭ ঘণ্টা* (রাস্তাঘাট ও ট্রাফিকের উপর নির্ভর করে)  

- সেখান থেকে কামালগঞ্জ ও টিলাগাঁও রিসোর্টের পথে সিএনজি বা রিজার্ভ গাড়ি নেওয়া যায়।  
রিসোর্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারা ২৪‑ঘণ্টা রিসেপশন এবং গাড়ি ও বাইসাইকেল ভাড়া সুবিধা দিয়ে থাকে।
  
রুম ভাড়া  
  • মাটির ঘর (Mud House): ≈ ৳৫,৫০০/রাত 
  • এসি ভিলা: ≈ ৳৭,০০০/রাত [1]   
  • প্রাইভেট ইনফিনিটি পুল ভিলা: ≈ ৳১১,০০০/রাত
  • মূল্য মৌসুম, রুম টাইপ ও প্যাকেজ (হাফ/ফুল বোর্ড) অনুসারে পরিবর্তন হতে পারে। 
অন্যান্য খরচ ও টিপস  
– খাবার: রেস্তোরাঁয় স্থানীয় খাবার খরচ সাধারণত মাঝারি।  
– শীতে বা ছুটির দিনে আগাম রিজার্ভেশন করাই ভালো।  
– অনেক অতিথি বলছেন WiFi ও পরিষেবার দিক থেকে রিসোর্ট ভালো হলেও কোনো সময় যেমন ইলেকট্রিক স্পাইক বা পাহাড়ি রাস্তায় যাত্রার কারণে মন্থরতা থাকতে পারে।

অতিথি রিভিউ সংক্ষেপ  

অনেক অতিথি মন্তব্য করেছেন, Free WiFi, হিল ভিউ বারান্দা সহ রুম»‑এর কারণে এখানে থাকার সময় অনেক বেশি “লোকচক্ষু থেকে দূরে”‑এর অনুভুতি পেয়েছেন।   রিসোর্ট‑এর রুমগুলোতে রয়েছে কাজের ডেস্ক, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, প্রাইভেট বাথরুম ও বালকনি যা পাহাড় বা বাগানের দৃশ্য উপভোগের সুযোগ দেয়।  
রেস্তোরাঁয় পরিবেশের স্বাদটাও আছে—স্থানীয় ফার্ম থেকে তাজা উপাদানে রান্না করা খাবার অতিথিদের প্রশংসা পেয়েছে।  এখানে বসে রাতের দিকে হাঁটা, হিমেল বাতাসে কথা বলা বা আরামে বই পড়া—সবই হয় একান্তভাবে।  

রিসোর্টের মূল আকর্ষণগুলো হলো: ইনফিনিটি পুল‑ভিলা, মাটির ঘর (mud‑made rooms), এসি ভিলা—all‑eco‑material ভিত্তিতে তৈরি।  ভিড় ও আশপাশের অব্যক্ত পরিবেশের কারণে বিশেষ করে কাপল, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের জন্য এক ভালো বিকল্প।  
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একান্ত ভ্রমণ বা শান্তি খুঁজছেন এমনরা এই রিসোর্ট বেছে নিতে পারেন, কিন্তু শহরের পকেট থেকে একটু বেশি বিনিয়োগ করার মানে রয়েছে। কারণ বিশেষ ধরনের কটেজ বা ভিলা একটু বেশি খরচে হতে পারে। অতিথিদের কিছু মন্তব্যে এসেছে যে, কিছু রুম আপগ্রেড করলে ভিউ ও অভিজ্ঞতা অনেক বেড়ে যায়।   
সবার জন্য ছাড়া না হলেও, যদি আপনি প্রকৃতির মাঝখানে সময় কেটে ফিরতে চান, তাহলে এই রিসোর্টই হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।  

যাওয়া‑আসার সহজ উপায়, রিজার্ভেশন ও খরচের ধারণা
এই রিভিউগুলো দেখিয়ে দেয়, টিলাগাঁও‑র মূল শক্তি হলো পরিবেশ‑সচেতনতা ও নির্মল প্রকৃতির সঙ্গে আন্তঃসংযোগ।
  
সিক্রেট টিপস  
– রিসোর্টে ফেয়ার রুম ভাড়া পেতে অফ সিজনে বা মধ্য সপ্তাহে যাওয়া ভালো।  
– রেস্তোরাঁয়ে স্থানীয় চা বাগানের চা‑তাজা উপাদানে পরিবেশিত হলে সেটি ট্রাই করুন।  
– সন্ধ্যার পর রেস্তোরাঁর বাইরে হালকা হাঁটা দারুণ অনুভূতি দেয়—রুমের বারান্দা থেকে নয়, একটু ঘরে বেরিয়ে পাহাড়ি বাতাসে সেটি।  
– রিজার্ভেশন করার সময় ভিউ সিলেক্ট করুন—বাগান বা পাহাড়ের দিকে হলে অভিজ্ঞতা অনেক বেড়ে যায়।  
---লাগাও ইকো ভিলেজের মাড হাউজের কক্ষগুলো, যেখানে আধুনিক আরাম আর প্রকৃতির নির্মলতা মিলেমিশে একাকার। এই রুমগুলো শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা!

আমাদের প্রতিটি কক্ষ যত্ন করে তৈরি করা হয়েছে স্থানীয় মাটি এবং কাঠ ব্যবহার করে। এর প্রতিটি ইঞ্চিতে লেগে আছে প্রাকৃতিক ভালোবাসার ছোঁয়া, যা আপনাকে দেবে এক অনাবিল শান্তি ও স্নিগ্ধতা। 

এখানে আপনি পাবেন:
✨ মাটির দেয়ালের শীতল পরশ ও কাঠের মেঝের উষ্ণতা।
✨ প্রকৃতির মাঝে নির্ভেজাল আরামদায়ক থাকার অভিজ্ঞতা।
✨ আধুনিক সব সুবিধা, যা আপনার ভ্রমণকে করবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

বাইরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির কোলে নিজের জন্য একটি শান্ত সময় কাটাতে চাইলে টিলাগাও ইকো ভিলেজ আপনার আদর্শ গন্তব্য। এখানে প্রতিটি দিন শুরু হবে পাখির কিচিরমিচির আর শেষ হবে তারাদের মেলায়।

পরিবেশ-বান্ধব এই থাকার অভিজ্ঞতা নিতে আজই বুকিং দিন!

টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ হলো এক শান্তি‑সন্ধানীর ঠিকানা—যেখানে আপনি শহরের হট্টগোল ভুলে গিয়ে প্রকৃতির কোলে পৌঁছাতে পারেন। রিসোর্ট‑এর পরিবেশ‑বান্ধব ডিজাইন, হিল ভিউ ভিলা ও বিলাসিতা একসঙ্গে মেলে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার জন্য। যাত্রা একটু বেশি সময় নেয়, হতে পারে একটু খরচ বেশি পড়বে, কিন্তু যে শান্তি ও পুনরুজ্জীবন আপনি পাবেন—তার কোনো মূল্য নেই।  
পরবর্তী ছুটি পরিকল্পনায় থাকলে এই রিসোর্টটি থাকতেই পারে আপনার প্রথম পছন্দ। আগাম বুকিং করুন, ব্যাগ বানিয়ে ফেলুন, আর নিজেকে দিন একান্ত সময়—টিলাগাঁও‑র পাহাড়ি হাওয়ার মাঝখানে।  
ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও স্মৃতিময়!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.