কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড 20 টি দর্শনীয় স্থানের পূর্ণ বিবরণ

বাংলাদেশের পর্যটনের হৃদয় বলা হয় কক্সবাজারকে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ছাড়াও এখানে রয়েছে পাহাড়, ঝরনা, দ্বীপ, মসজিদ, দৃষ্টিনন্দন ভিউ পয়েন্ট এবং নানা রকম অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ। ২০২৫ সালে নতুন নতুন উন্নয়ন যুক্ত হওয়ায় কক্সবাজার এখন আরও আকর্ষণীয়। যারা পরিবার, বন্ধু বা একাকী ভ্রমণে যেতে চান—তাদের জন্য এই গাইডে উল্লেখ করা হলো কক্সবাজারের 20টি দর্শনীয় স্থানের সম্পূর্ণ বিবরণ এবং ভ্রমণ টিপস।

১. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এখানে একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে অসীম সমুদ্র—এই দুই মিলনে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য দৃশ্যপট। প্রতিদিন হাজারো পর্যটক এখানে আসেন ঢেউয়ের গর্জন, বাতাসের স্নিগ্ধতা এবং সূর্যাস্তের লাল আভা উপভোগ করতে। সৈকতের বালু অত্যন্ত নরম এবং হাঁটার জন্য বেশ আরামদায়ক। এখানে সারাদিন ধরে বিচ অ্যাক্টিভিটি, ফটোগ্রাফি, হর্স রাইড, সিভিউ রেস্টুরেন্ট, ব্যালকনি, বাজার — সবকিছুই পাওয়া যায়।

এখানে ভোরে সূর্যোদয়ের দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর। বিস্তৃত নীল সমুদ্ররেখা থেকে সূর্যের ধীরে ধীরে উঁকি দেওয়া দেখতে হাজারো পর্যটক আলোকচিত্র তুলতে আসেন।

কিভাবে যাবেন: কক্সবাজার শহরের হোটেল এলাকা থেকে লাবণী পয়েন্ট বা সুগন্ধা পয়েন্টে যেতে অটো/রিকশা নিলে সময় লাগে ৫–১০ মিনিট। ভাড়া ২০–৪০ টাকা।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

২. কলাতলী সী বিচ 
কক্সবাজারের অন্যতম সেরা বিচ হলো কলাতলী। এটি অপেক্ষাকৃত বেশি উন্নত এবং পর্যটকবান্ধব এলাকা। এখানে বিচের পাশে প্রচুর রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, বিচ কনসেপ্ট শপ, কফিশপ, বিচ বাইক, জেটস্কি এবং প্যারাসেইলিং-এর সুবিধা রয়েছে। কলাতলী বিচের পরিবেশ তুলনামূলক প্রাণবন্ত এবং নিরাপত্তাও ভালো।
এখানে ঢেউ তুলনামূলক মাঝারি এবং সকাল-বিকাল সৈকতে হাঁটাহাঁটির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কলাতলী থেকে হিমছড়ি, ইনানী, মেরিন ড্রাইভ রোডের শুরু, জেটস্কি জোন সবই খুব কাছে। পর্যটকরা সাধারণত সন্ধ্যায় এখানে সবচেয়ে বেশি সময় কাটান।
কলাতলী বিচে রঙিন কুরসি সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে, যেখানে বসে আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করতে পারবেন।

কিভাবে যাবেন: কক্সবাজার শহর থেকে যেকোনো অটো/রিকশা ধরে ১০ মিনিটে কলাতলী পৌঁছে যাবেন। ভাড়া ২০–৩০ টাকা।

৩. লাবণী পয়েন্ট সী বিচ 
লাবণী পয়েন্ট হলো কক্সবাজার বিচের মূল কেন্দ্র এবং সবচেয়ে জনবহুল স্থান। বেশিরভাগ পর্যটক প্রথম দিনেই লাবণী বিচে সময় কাটাতে আসেন। এর চারপাশে রয়েছে বিচ মার্কেট, সুভেনির শপ, ফুড কর্নার, বরফ-ঠান্ডা ডাবের পানি, বিচ ফটো স্টেশন এবং ঘোড়ার সওয়ারির ব্যবস্থা।
এখানকার পানির ঢেউ কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় এটি ছবি তোলা ও ঢেউ ধরার জন্য আদর্শ। শিশুদের জন্য বিভিন্ন বেলুন ও খেলার আইটেমও পাওয়া যায়। সৈকতের বালু খুবই মসৃণ এবং সমতল হওয়ায় হাঁটতে মজা লাগে।

কিভাবে যাবেন: শহরের কেন্দ্র থেকে অটো দিয়ে ৫–৭ মিনিটে লাবণী পয়েন্ট পৌঁছানো যায়। ভাড়া ২০–২৫ টাকা।

৪. সুগন্ধা বিচ

সুগন্ধা বিচ কক্সবাজারের তুলনামূলক শান্ত ও পরিষ্কার সৈকতগুলোর একটি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বেশ আরামদায়ক এবং মুক্ত বাতাস উপভোগ করার জন্য উপযোগী। বিচের ধারে অনেক কাঠের রেস্ট এরিয়া, ব্যাম্বো কুরসি আছে, যেখানে বসে পর্যটকরা ঘন্টার পর ঘন্টা সমুদ্র দেখতে পারেন।
সুগন্ধা থেকে সূর্যাস্ত দেখা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এখানকার জেটস্কি, ঘোড়ায় চড়া, বীচ ফটোশুট খুব জনপ্রিয়। সুগন্ধা পয়েন্টে রেস্তোরাঁর মানও ভালো এবং খাবারের দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

কিভাবে যাবেন: শহর থেকে অটো বা ব্যাটারিচালিত রিকশায় মাত্র ৮–১০ মিনিট লাগে সুগন্ধা বিচ যাওয়ার জন্য।

৫. ইনানী সী বিচ 
ইনানী সী বিচ কক্সবাজারের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রাকৃতিক সৈকতগুলোর একটি। এখানে রয়েছে অসংখ্য প্রবাল পাথর, যা ঢেউয়ের আঘাতে ঝলমল করে ওঠে। ইনানীর পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং গভীর নীল রঙের হওয়ায় এটি আলোকচিত্রের জন্য স্বর্গ বলে বিবেচিত হয়।
ইনানীর মূল আকর্ষণ হলো সূর্যাস্ত। সন্ধ্যা নামে যখন পুরো সমুদ্র লাল হয়ে ওঠে, তখন দৃশ্যটি যেন চিত্রকর্মের মতো। এর আশেপাশে বেশ কিছু বিলাসবহুল রিসোর্ট রয়েছে।

কিভাবে যাবেন: কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে জিপ/অটোতে ৩০–৪০ মিনিট লাগে। ভাড়া ২০০–৪০০ টাকা।

৬. হিমছড়ি ঝর্ণা ও পাহাড়
হিমছড়ি কক্সবাজারের একটি পাহাড়ি-ঝর্ণার অঞ্চল যা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বর্ষাকালে এখানে ঝর্ণায় পানি থাকে এবং শীতকালে দেখা যায় সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়ঘেরা ট্রেইল আর চমৎকার ভিউ-পয়েন্ট।
হিমছড়ি ভিউ পয়েন্টে উঠলে নীল সমুদ্ররেখা, ঘন সবুজ অরণ্য এবং পাহাড়ের সমন্বয় একটি অসাধারণ দৃষ্টিসমূহ তৈরি করে। এটি পিকনিক স্পট হিসেবেও জনপ্রিয়।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে ২০–২৫ মিনিটে হিমছড়ি পৌঁছানো যায়। অটো/জিপ পাওয়া যায় সহজেই।

৭. সেন্ট মার্টিন প্রবাল দ্বীপ 
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। নীল সমুদ্র, প্রবাল, নারিকেল গাছের সারি, স্নিগ্ধ বাতাস—all মিলে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর দ্বীপগুলোর একটি। এখানে রাতে সমুদ্রের ঢেউ এবং আকাশভরা তারার দৃশ্য হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।
সেন্ট মার্টিনে আপনি পেতে পারেন—
  1. স্কুবা ডাইভিং
  2. স্নরকেলিং
  3. বোট রাইড
  4. সী-ফুড
  5. প্রবাল দেখা
দ্বীপটি খুবই শান্ত এবং নিরাপদ। এখানে গাড়ির ব্যবহার নেই। ফলে বাতাস এবং প্রকৃতির বিশুদ্ধতা চরমভাবে অনুভব করা যায়।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার থেকে টেকনাফ বাস → টেকনাফ জেটি → জাহাজে সেন্ট মার্টিন।
সময়: ৪–৫ ঘণ্টা। 

৮. সমুদ্র বিলাস, সেন্ট মার্টিন 
সেন্ট মার্টিনের অন্যতম শান্ত বিচ পয়েন্ট হলো সমুদ্র বিলাস। এখানে পর্যটকের ভিড় কম, তাই প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য অনুভব করা যায়। স্নরকেলিং, ডাইভিং ও কাচের মতো স্বচ্ছ পানিতে পা ভিজিয়ে হাঁটা—এসব অভিজ্ঞতা অনন্য।

যেভাবে যাবেন: সেন্ট মার্টিন জেটি থেকে রিকশা বা হাঁটলে ১৫–২০ মিনিট লাগে।

৯. সেন্ট মার্টিন উত্তর বিচ 
উত্তর বিচের পানি সবচেয়ে নীল। আলো-ছায়ার খেলা এবং চওড়া বালুর সৈকত একে ছবি তোলার জন্য আদর্শ বানিয়েছে। ঢেউ তুলনামূলক শান্ত, তাই সাঁতার কাটা নিরাপদ।

যেভাবে যাবেন: জেটি থেকে হাঁটা বা বাইসাইকেলে ১০ মিনিট।

১০. ছেড়া দ্বীপ 
সেন্ট মার্টিনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো ছেড়া দ্বীপ। এখানে পানির রং নীল-সবুজ এবং স্বচ্ছতা এতই ভালো যে পানির নিচ পর্যন্ত দেখা যায়। প্রবালের উপস্থিতি খুব বেশি হওয়ায় বোট রাইড একটি দারুণ অভিজ্ঞতা।
গভীর নীরবতা আর হাওয়া আপনাকে মুগ্ধ করবে।

যেভাবে যাবেন: সেন্ট মার্টিন থেকে বোটে ২০–৩০ মিনিট। ভাটার সময় হাঁটলেও যাওয়া সম্ভব।

১১. শাহ পরীর দ্বীপ, টেকনাফ  শাহ পরীর দ্বীপ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একটি দ্বীপাঞ্চল, যা বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। নীরব ও শান্ত পরিবেশ, বিস্তৃত সৈকত, মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রা এবং সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য এটি বিখ্যাত। পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক কম হওয়ায় যারা শান্ত পরিবেশে প্রকৃতি উপভোগ করতে চান তাদের জন্য এই দ্বীপ একটি আদর্শ গন্তব্য।
দ্বীপের মানুষজন অত্যন্ত বন্ধুসুলভ, এখানকার তাজা সীফুড, শুকনো মাছ, নারিকেল ও ছোট ছোট স্থানীয় দোকানগুলো ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। নাফ নদী এবং সমুদ্রের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে ঢেউ দেখা সত্যিই হৃদয়গ্রাহী।
বর্ষাকালে এখানে ঢেউ কিছুটা বেশি শক্তিশালী হয়, তবে শীতকাল ও গ্রীষ্ম মৌসুম ভ্রমণের জন্য খুবই ভালো সময়।

কিভাবে যাবেন: কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফগামী বাসে উঠে শাহপরীর দ্বীপের কাছাকাছি শামলাপুর/টেকনাফ পয়েন্টে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা ধরে ২০–২৫ মিনিটে দ্বীপে পৌঁছানো যায়।

১২. রামু রাবার বাগান 
রামু রাবার বাগান বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাবার বাগান। সারি সারি লম্বা রাবার গাছ, চারপাশের সবুজ পরিবেশ এবং রাস্তার দু'পাশের শান্ত দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। রাবার গাছের দুধ সংগ্রহের দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকলে তা বেশ শিক্ষামূলক ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে।
বাগানের মধ্যে হাঁটলে বাতাস অত্যন্ত সতেজ মনে হয়, আর সারা এলাকা ফটোশুটের জন্য আদর্শ। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী এখানে স্টাডি ট্যুরে আসে। গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে বাতাসে দুলতে দুলতে প্রকৃতিকে অনুভব করা রামু রাবার বাগানের বিশেষত্ব।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার শহর থেকে রামু বাজারের দিকে বাস, অটো বা সিএনজিতে উঠুন। শহর থেকে ১৫–২০ কিমি দূরে। ভাড়া ৩০–৫০ টাকা।

১৩. রামু বৌদ্ধ মন্দির 
রামু বৌদ্ধ মন্দির বা রামুর বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ঐতিহাসিক স্থাপনা কক্সবাজারের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় স্থান। এখানে একটি বিশাল শায়িত বুদ্ধমূর্তি আছে, যা দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসেন।
মন্দিরের চারপাশে রয়েছে বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতীক, ওরঙিন পতাকা, শান্ত পরিবেশ এবং পাহাড়ি সৌন্দর্য। রামুর বৌদ্ধ মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যেরও এক অনন্য উদাহরণ।
এখানের পরিবেশ অত্যন্ত নীরব, যা মনকে শান্ত করে। মন্দির প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের সবুজ, বাতাস আর ঘন্টার শব্দ মনকে প্রশান্ত করে।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার শহর থেকে রামুগামী বাস, সিএনজি বা অটোতে ৩০ মিনিট সময় লাগে।

১৪. রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, কক্সবাজার 
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রজীববৈচিত্র্য প্রদর্শনীস্থানগুলোর একটি। এখানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, স্টারফিশ, রে ফিশ, অক্টোপাসসহ অসংখ্য বিরল ও আকর্ষণীয় জলজ প্রাণী রয়েছে।
পর্যটকদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দদায়ক একটি স্থান, বিশেষত শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক। প্রদর্শনীতে রয়েছে আলোকসজ্জা, অ্যাকুরিয়াম টানেল এবং গাইডেড ট্যুর ব্যবস্থা।
অনেকে এখানে ভিডিও ও ফটো তোলেন, যা কক্সবাজার ভ্রমণের স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।

যেভাবে যাবেন: শহরের কলাতলী এলাকায় অবস্থিত, অটোতে ৫ মিনিট লাগে।

১৫. নিভূতে নিসর্গ পার্ক, চকোরিয়া 
চকরিয়ার নিভূতে নিসর্গ পার্ক একটি সুন্দর প্রকৃতি উদ্যান, যেখানে রয়েছে ঘন সবুজ গাছপালা, কৃত্রিম লেক, হাঁটার পথ এবং বিশ্রামের জায়গা। পার্কটি পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আদর্শ।
পাখির ডাক, লেকের স্বচ্ছ পানি এবং বাগানের পরিপাট্য পরিবেশ অনেককে মুগ্ধ করে। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য নিসর্গ পার্ক একটি উপযুক্ত স্থান।
এখানে ছোট নৌকা চালানো, বসার বেঞ্চ, নিরাপদ খেলার জায়গা এবং বিশাল সবুজ মাঠ রয়েছে।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার থেকে চকরিয়াগামী বাসে ১ ঘণ্টা। তারপর অটো বা রিকশায় পার্কে যাওয়া যায়।

১৬. ইনানী রয়েল রিসোর্ট 
ইনানীর অন্যতম বিলাসবহুল রিসোর্ট হলো ইনানী রয়েল রিসোর্ট। রিসোর্ট ঘিরে সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য ও পাহাড়ের সমন্বয় দেখলে মন ভরে যায়। অতিথিদের জন্য রয়েছে প্রাইভেট বিচ, সুইমিং পুল, রুফটপ রেস্টুরেন্ট এবং দৃষ্টিনন্দন কটেজ।
এখানে থাকা মানে প্রকৃতির সাথে বিলাসিতার মিলন। সানসেট দেখার জন্য এখানে আলাদা ভিউ স্পট রয়েছে।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে ৩০–৪০ মিনিটের পথ।

১৭. মাথিনের কূপ, টেকনাফ 
মাথিনের কূপ টেকনাফের ঐতিহাসিক প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি স্মৃতি-চিহ্ন। কাহিনীটি হলো: একজন বর্মি রাজকন্যা মাথিন এবং ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা ডানকান ভালোবেসে ছিলেন। ডানকান দেশে ফিরে গেলে মাথিন প্রেমবিয়োগে মারা যান। তাঁর স্মৃতিতে স্থানীয়রা এ কূপ তৈরি করে।
এখানের শান্ত পরিবেশ এবং পুরনো স্থাপত্য ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী বাস → টেকনাফ শহর। সেখান থেকে হাঁটা বা অটোতে ৫ মিনিট।

১৮. রয়েল টিউলিপ সী পার্ল রিসোর্ট, ইনানী 
বাংলাদেশের অন্যতম বিলাসবহুল রিসোর্ট হলো রয়েল টিউলিপ। এটি ইনানীর সমুদ্রতীর ঘেঁষে অবস্থিত এবং এখানে রয়েছে প্রাইভেট বিচ, হেলিপ্যাড, সুইমিং পুল, ওয়াটার পার্ক, ৫-তারকা মানের রুম, সমুদ্র-ভিউ রেস্টুরেন্ট এবং বিশাল সবুজ বাগান।
এটি পরিবার, দম্পতি ও হানিমুন ট্রাভেলারের জন্য আদর্শ।

যেভাবে যাবেন: কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে ৩৫–৪০ মিনিট।

১৯. মেরিন ড্রাইভ রোড, কক্সবাজার 
মেরিন ড্রাইভ বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং দীর্ঘতম সমুদ্র-সংলগ্ন সড়ক। এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে সমুদ্র—এমন সৌন্দর্য দেশের আর কোথাও দেখা যায় না।
এই রাস্তায় জিপ রাইড, মোটরবাইক রাইড, সাইকেল রাইড—সবই অত্যন্ত উপভোগ্য। হিমছড়ি, ইনানী, শামলাপুর সবই এই রোডের আশেপাশে।

যেভাবে যাবেন: কলাতলী থেকে সরাসরি মেরিন ড্রাইভ শুরু। অটো, জিপ, মোটরবাইক সহজলভ্য।

২০. মারমেইড বিচ রিসোর্ট, কক্সবাজার

মারমেইড বিচ রিসোর্ট কক্সবাজারের অন্যতম শান্ত ও প্রাকৃতিক রিসোর্ট। বাঁশ, কাঠ ও কটেজ আর্কিটেকচারে তৈরি রিসোর্টটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ।
এখানে রয়েছে প্রাইভেট বিচ, রুফটপ রেস্টুরেন্ট, বিচ লাউঞ্জ, নিরিবিলি বসার জায়গা এবং সবুজময় পরিবেশ। দম্পতি ও হানিমুন ট্রাভেলারদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়।

যেভাবে যাবেন: কলাতলী থেকে অটো নিয়ে ১০–১২ মিনিটে রিসোর্টে পৌঁছানো যায়।

২০২৫ সালে কক্সবাজার ভ্রমণ আরও সহজ, উন্নত ও রোমাঞ্চকর হয়েছে। সমুদ্র, পাহাড়, দ্বীপ, ঝরনা, খাবার—সবকিছু মিলিয়ে এখানে একসাথে পাওয়া যায় সম্পূর্ণ ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স। 20 টি দর্শনীয় স্থানের এই পূর্ণ গাইড আপনার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় ও পরিকল্পনাযোগ্য করে তুলবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.