কুমিল্লা শহরে ঘুরে দেখার মতো ৫টি সেরা স্থান ও কীভাবে পৌঁছাবেন – বিস্তারিত ভ্রমণ গাইড

বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক নগরী হলো কুমিল্লা। এখানে রয়েছে ইতিহাস, প্রকৃতি, ধর্মীয় স্থাপনা ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহজে পৌঁছানো যায় বলে কুমিল্লা শহর সবসময় ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়। আজ তুলে ধরা হলো কুমিল্লা শহরের ৫টি জনপ্রিয় ভ্রমণস্থান এবং কিভাবে সেখানে যাবেন, তার বিস্তারিত।

১. কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও ভিক্টোরিয়া কলেজ লেক

কুমিল্লা শহরের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম জায়গাগুলোর একটি হল ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং এর পাশে অবস্থিত সুন্দর লেক। সকালে কিংবা বিকেলে হাঁটার জন্য, ছবি তোলার জন্য এবং প্রকৃতির নিস্তব্ধতা উপভোগের জন্য জায়গাটি অসাধারণ।

কি দেখবেন

  • সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস
  • লেকের পাশে ওয়াকওয়ে
  • পুরনো স্থাপত্য

কিভাবে যাবেন 

কুমিল্লা শহরে পৌঁছে যে কোনো CNG/রিকশা ধরে কান্দিরপাড় বা ভিক্টোরিয়া কলেজ মোড় বললে সহজেই পৌঁছানো যাবে। ভাড়া ২০–৪০ টাকা।

২. কুমিল্লা বার্ড (BARD)

বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট, সংক্ষেপে BARD, কুমিল্লার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ পরিবেশ সমৃদ্ধ একটি ভ্রমণ কেন্দ্র। এখানে রয়েছে পর্যটকদের জন্য খোলা লেক, গার্ডেন, উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।

কি দেখবেন

  • বড় লেক ও বোটিং সুযোগ
  • সবুজ বৃক্ষ ও বিশাল গার্ডেন
  • মিনি পাহাড়ি ট্র্যাক
  • শান্ত ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ

কিভাবে যাবেন

কুমিল্লা শহর থেকে কোটবাড়ি রোড ধরে সহজেই BARD পৌঁছানো যায়। CNG ভাড়া ৮০–১৫০ টাকা। শহর থেকে সময় লাগে ১৫–২০ মিনিট।

কুমিল্লা শহরে ঘুরতে যাওয়া যায় এমন ৫টি সেরা জনপ্রিয় স্থান

৩. ময়নামতি মিউজিয়াম

বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক ভাণ্ডার হলো ময়নামতি মিউজিয়াম। এখানে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন, মৃৎপাত্র, ব্রোঞ্জ মূর্তি, শিলালিপি ইত্যাদি সংরক্ষিত আছে। ইতিহাসপ্রেমীরা অবশ্যই এই স্থানটি পছন্দ করবেন।

কি দেখবেন

  • শালবন বৌদ্ধবিহারের খননকৃত নিদর্শন
  • প্রাচীন সভ্যতার মূর্তি ও পাথরের শিল্প
  • বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপত্যের ইতিহাস

কিভাবে যাবেন

কুমিল্লা শহর থেকে যেকোনো CNG/অটোরিকশায় শালবন বিহার বা ময়নামতি মিউজিয়াম বললে পৌঁছে দেবেবে। ভাড়া ৮০–১২০ টাকা।

৪. শালবন বৌদ্ধবিহার

কুমিল্লার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে শালবন বৌদ্ধবিহার প্রথম সারিতে। এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ, যা ৮ম বা ৯ম শতকে নির্মিত। বিশাল স্থাপনার খোলা পরিবেশ, সবুজ মাঠ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

কি দেখবেন

  • বৌদ্ধ মঠের ধ্বংসাবশেষ
  • বড় খোলা মাঠ
  • মনোরম ফটোস্পট
  • কাছেই ময়নামতি যুদ্ধ সমাধিক্ষেত্র

কিভাবে যাবেন

মিউজিয়ামের মতো কোটবাড়ি রোড দিয়েই যেতে হবে। শহর থেকে সময় লাগে ১৫–২০ মিনিট।

৫. কুমিল্লা ক্যান্ডল লাইট (ক্যান্ডল স্ট্যান্ড) – কান্দিরপাড়

শহরের কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড়ে অবস্থিত রোমান্টিক ও আলোকিত ক্যান্ডল লাইট এলাকা কুমিল্লার অন্যতম রাতের সৌন্দর্য। সন্ধ্যার পরে চারপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে, ফলে তরুণদের মাঝে এটি বেশ জনপ্রিয়।

কি দেখবেন

  • আলোকসজ্জা
  • আধুনিক কফি শপ
  • নাইট ফটোগ্রাফির অসাধারণ জায়গা

কিভাবে যাবেন

শহরের যেকোনো জায়গা থেকে রিকশা নিয়ে কান্দিরপাড় পৌঁছে যেতে পারবেন। ভাড়া ২০–৩০ টাকা।

ঢাকা থেকে কীভাবে কুমিল্লা যাবেন 

বাসে: গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী থেকে প্রতিদিন কুমিল্লার বাস চলে। সময় লাগে ৩–৪ ঘণ্টা।

ট্রেনে: কমলাপুর থেকে মেইল/ইন্টারসিটি ট্রেন চলে। সময় লাগে ২–৩ ঘণ্টা। সবচেয়ে আরামদায়ক অপশন।

প্রাইভেট কার/মাইক্রো: ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ধরে ২.৫–৩ ঘণ্টায় কুমিল্লা পৌঁছানো যায়।

কুমিল্লা প্রাকৃতিক লেক, ঐতিহাসিক স্থান, প্রত্নতত্ত্ব আর আধুনিক নগরীর সমন্বয়ে কুমিল্লা শহর একটি চমৎকার ভ্রমণ গন্তব্য। স্বল্প বাজেট ও কম সময়ে ঘুরতে চাইলে শহরের ৫টি জনপ্রিয় স্থানই আপনাকে দেবে আলাদা অভিজ্ঞতা। পরিবার, বন্ধু বা একা—সব ক্ষেত্রেই কুমিল্লা একটি নিরাপদ ও পরিপূর্ণ ট্যুর স্পট।শহর ইতিহাস, প্রকৃতি, সংস্কৃতি সব মিলিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য এক অসাধারণ জায়গা। ভিক্টোরিয়া কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে শালবন বৌদ্ধবিহার—প্রতিটি স্থানেই রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। খুব অল্প খরচে আর স্বল্প সময়ে আপনি একটি সুন্দর দিনের ট্যুর বা পরিবার-সহ একটি স্মরণীয় ঘোরাঘুরি উপভোগ করতে পারবেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.