বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নরসিংদী জেলা তার নদী, ইতিহাস, রিফ্লেক্সিভ গ্রামীণ পরিবেশ ও শহর থেকে কাছেই অবস্থিত হওয়ার কারণে একটি আদর্শ ঘোরাঘুরির গন্তব্য। যদি আপনি একটু দ্রুত ধাপে ঘোরাঘুরি করতে চান, তাহলে নরসিংদীর আশপাশের ১০টি মনোরম জায়গা আপনার জন্য হতে পারে এক মনোমুগ্ধকর বিকল্প। নিচে সেসব স্থান ও তাদের আকর্ষণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
১. উয়ারী‑বটেশ্বর (Wari‑Bateshwar)
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান প্রাচীন বসতির খোঁজে পরিচিত। প্রায় ২৫০০ বছরের পুরনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ এখানে পাওয়া গেছে। [1] নদীর পারে বসে সেই ইতিহাসের স্তর ভাবতে গেলে মন অবাক হয়।
২. ড্রিম হলিডে পার্ক
নরসিংদী সদরে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা থিম পার্ক। এখানে রয়েছে ঘেরাটোপে হ্রদ, হ্রদের মাঝখানে সি-ভিউ, সুইং, শিশু ও বড়দের জন্য রাইড। একদিনের ফেমিলি আউটিং বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মজার সময় কাটানোর জন্য আদর্শ।
৩. আর্শিনগর পার্ক ও মিনি জু
নরসিংদী সদর থেকে কাছেই এই পার্ক‑জু মিলিয়ে এক মনোরম পরিবেশ। শিশুদের সঙ্গে গেলে ভালো লাগবে এখানে শান্ত বসার জায়গা, হাঁটা পথ ও ঘুরে দেখার সুযোগ।
৪. বেলাবো বাজার মসজিদ
বেলাবো উপজেলার এই মসজিদ দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য ও বড়‑আলেমেন্টেড মসজিদ হিসেবে স্থানীয়ভাবে প্রসিদ্ধ। শুধু ধর্মীয় নয়, স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্যও এটি দর্শনীয়।
৫. চিনিষপুর কালীবাড়ি
হিন্দু ধর্মীয় এই পুরনো মন্দিরটি নরসিংদীর রায়পুর থানার অন্তর্গত। প্রত্নতত্ত্ব ও ধর্মীয় ইতিহাসের মিশ্রণ এখানে চোখে পড়ে।
৬. মোনু মিয়া জমিদার বাড়ি
ঘোড়াশাল বাসস্ট্যান্ডের কাছেই এই জমিদার বাড়িটি স্থাপত্য রুচি ও প্রত্নতত্ত্বের প্রেমীদের জন্য ভালো একটি ভ্রমণ।
৭. শীতলাকষ্যা নদী
নরসিংদীর অন্তর্গত এই নদীর তীর ঘুরে বেড়ানো, সন্ধ্যার সময় হালকা হাওয়া ও নদীর প্রবাহ অনুভব করা এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়।
৮. আরিয়াল খাঁ নদী
নরসিংদীর গ্রামগঞ্জ পরিবেশে এই নদী দিয়ে হালকা নৌকা বা নদীর তীরে বসে সময় কাটানো যায়। সুনিবিড় প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটাতে চাইলে ভালো বিকল্প।
৯. বাবুরহাট হাট
“ইস্ট ম্যানচেস্টার” নামে পরিচিত এই বাজার বস্ত্র ও শিল্পকলা কেন্দ্র। হালকা ঘুরে দেখলে স্থানীয় হস্তশিল্প ও বাংলার বস্ত্র শিল্পের কথা বোঝা যায়।
১০. আরবেশপুর মোসকিদ (Ashrafpur Mosque)
নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী একটি মসজিদ যেখানে সাংবাদিক ও ইতিহাসপ্রেমীরা আগ্রহ নিয়ে ঘুরে দেখেন
ঘোরাফেরা করার পরিকল্পনা ও পরামর্শ
নরসিংদীর এই ভ্রমণ সাধারণত ঢাকা থেকে দিনভর সম্ভব। ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রায় ১–২ ঘণ্টা লাগতে পারে — কারণ এটি ঢাকা‑সিলেট হাইওয়ের কাছেই অবস্থিত। পরিবহন অনেক রয়েছে; বাস, প্রাইভেট কার বা গ্রুপভিত্তিক যাত্রা করা যায়। প্রতিটি স্থান এক‑এক ঘুরে দেখে, সময়মতো ছবি তোলা এবং স্থানীয় খাবার ট্রাই করা মিস করবেন না। বিশেষ করে বাবুরহাট বাজারে ঘুরে স্থানীয় হস্তশিল্প ও বাজারদরের অভিজ্ঞতা একদম ভিন্ন।
একইভাবে নদীর তীরে, উদাহরণস্বরূপ শীতলাকষ্যা বা আরিয়াল খাঁ তীরে বসে সূর্যাস্ত দেখুন—নরসিংদী শহরের হৈচৈ থেকে একদম আলাদা প্রশান্তি পাবেন। যদি পরিবারের সঙ্গে যান, তাহলে পার্ক ও মিনি জুতে শিশুদের জন্য বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে গেলে জমিদার বাড়ি ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে ঘুরে ইতিহাসের খোঁজ নিতে পারবেন।
প্যাকিং করবেন সময়সূচি ও আবহাওয়া খেয়াল করুন। বিশেষ করে গরম ও সিজন অনুযায়ী পোশাকবিধি ঠিক রাখুন। স্থানীয় খাবার ও হোটেল আগে থেকে খুঁজে নিলে ভ্রমণ সুন্দর হয়।

