Mermaid Eco Resort – প্রকৃতি ও আরামের এক মহামিলন
বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের কথা বলতে গেলে কক্সবাজারের নাম সবার আগে আসে। আর এই অন্তহীন সাগর–তট, তাল–কাঁটার সবুজ ছায়া এবং নীরব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত Mermaid Eco Resort এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইকো–ফ্রেন্ডলি রিসোর্টগুলোর একটি। পরিবেশবান্ধব কাঠামো, প্রাকৃতিক উপকরণ, শান্ত পরিবেশ ও রিলাক্সিং অ্যাম্বিয়েন্সের কারণে এটি শুধু একটি রিসোর্ট নয়—বরং প্রকৃতির মাঝে ফিরে যাওয়ার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
যেসব ভ্রমণপ্রেমী ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি খুঁজে নির্জন কোনো সবুজ পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে চান, Mermaid Eco Resort তাঁদের জন্য স্বর্গের মতো। রিসোর্টটি এমনভাবে নির্মিত যেখানে কনস্ট্রাকশন, লাইটিং, রুম ডিজাইন, খাবার এবং সার্বিক পরিবেশ—সবকিছুতেই রয়েছে ইকো-লাইফস্টাইলের ছোঁয়া। এতে অতিথিরা প্রকৃতির খুব কাছে থাকার অনুভূতি পান।
কক্সবাজারের পেঁচারদ্বীপ ও শান্ত মেরিন ড্রাইভের ঠিক পাশে অবস্থিত এই রিসোর্টটি পরিবার, কাপল, হানিমুন বা সলো ট্রাভেলার—সবার জন্যই বিশেষ। কাঠের কটেজ, বাঁশের তৈরি চলন, সবুজ বাগান, লেকের ধারে শান্ট টেবিল এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ—এসব মিলিয়ে Mermaid Eco Resort ভ্রমণকারীদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
Mermaid Eco Resort – কেন এত জনপ্রিয়?
১. মনোমুগ্ধকর লোকেশন
Mermaid Eco Resort কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের অন্যতম সুন্দর লোকেশনে অবস্থিত। এখানে এক দিকে সীমাহীন সমুদ্র, অন্য দিকে সবুজে ঘেরা প্রকৃতি। সকালে সাগরের হাওয়ায় ঘুম ভাঙা এবং রাতে ঢেউয়ের শব্দে ঘুমিয়ে পড়ার অনুভূতি এক কথায় অনন্য।
২. সম্পূর্ণ ইকো–ফ্রেন্ডলি কনসেপ্ট
রিসোর্টের প্রতিটি কটেজ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে—
- কাঠ
- বাঁশ
- স্ট্র
- মাটির টাইল
- ন্যাচারাল লাইটিং সিস্টেম
প্রকৃতিকে অক্ষত রেখে রিসোর্টের এই গঠন পরিবেশবান্ধব পর্যটনের দারুণ উদাহরণ।
৩. রুম ও কটেজের বৈচিত্র্য
Mermaid Eco Resort–এ আপনি পাবেন বিভিন্ন ধরনের রুম ও কটেজ—
- Lagoon Villa
- Bamboo Cottage
- Mermaid Villa
- Eco Suite
- Honeymoon Cottage
- Rustic Double Cottage
প্রত্যেক রুমেই রয়েছে:
AC/Non–AC অপশন
প্রাইভেট বারান্দা
ন্যাচারাল ডেকোর
আরামদায়ক বিছানা
গরম পানি
২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিসবিশেষ করে কাপল বা হানিমুন ট্রাভেলারদের জন্য কটেজগুলো দারুণ উপযোগী।
৪. খাবারের অসাধারণ ব্যবস্থা
Mermaid Eco Resort–এর সবচেয়ে সিগনেচার দিক হলো এর খাবার। এখানে পাওয়া যায়—
- অরগানিক খাবার
- সীফুড
- থাই, ইন্ডিয়ান ও বাংলা খাবার
- ফ্রেশ কারি, সালাদ
- কাঠে পোড়া বারবিকিউ
খাবারের স্পেশাল ফ্লেভার অতিথির মনে লেগে থাকে অনেকদিন।
৫. সার্ভিস ও হসপিটালিটি
রিসোর্টের স্টাফরা অত্যন্ত আন্তরিক।
- ট্রাভেল গাইড
- বিচ সেফটি
- বাইক/কার রেন্টাল
ইভেন্ট/ফটোসেশন সাপোর্ট—সবই পাওয়া যায় খুব সহজে।
৬. ফটোজেনিক স্পটসমূহ
ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকপ্রেমীদের জন্য Mermaid Eco Resort হলো পারফেক্ট স্পট।
- বাঁশের ব্রিজ
- লেক ভিউ
- সবুজ বাগান
- সমুদ্রতট
- কাঠের কটেজ
সব মিলিয়ে অসংখ্য ফটোজোন রয়েছে।
রুম ভাড়া (সাধারণ ধারণা)
(দ্রষ্টব্য: সিজন, ছুটি ও অফার অনুযায়ী ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে)
- Bamboo Cottage: 5,000–7,000৳
- Eco Suite: 8,000–10,000৳
- Lagoon Villa: 12,000–15,000৳
- Honeymoon Cottage: 10,000–14,000৳
Mermaid Eco Resort-এ আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা কেমন হবে?
আপনি যদি এমন কোনো রিসোর্ট খুঁজে থাকেন যেখানে একই সাথে শান্ত পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, সমুদ্রের ঢেউ, আরামদায়ক রুম এবং উচ্চমানের সার্ভিস উপভোগ করা যায়—তাহলে Mermaid Eco Resort হতে পারে আপনার ভ্রমণের সর্বোত্তম গন্তব্য। এই রিসোর্টটি এমনভাবে ডিজাইন করা যে এখানে অবস্থান করলে মনে হয় প্রকৃতির সাথে একাকার হয়ে গিয়েছেন। আধুনিক জীবনের চাপ, ব্যস্ততা ও ক্লান্তি থেকে বের হয়ে নিজের মনকে হালকা করতে চান? তাহলে একবার Mermaid Eco Resort–এ কয়েকদিন কাটিয়ে দেখুন।
রিসোর্টের ন্যাচারাল ভাইব, অরগানিক খাবার, পরিষ্কার পরিবেশ, নিরাপত্তা, রুম সার্ভিস এবং শান্ত অ্যাম্বিয়েন্স—সব মিলিয়ে এটি পরিবার, দম্পতি, হানিমুন ট্রাভেলার এবং বন্ধুবান্ধবদের জন্য উপযুক্ত। বিশেষ করে যারা ফটোগ্রাফি বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এখানে রয়েছে অসংখ্য ক্রিয়েটিভ ছবির সুযোগ।
শেষমেশ বলা যায়, Mermaid Eco Resort শুধু একটি রিসোর্ট নয়—এটি হলো প্রকৃতির মাঝে ফিরে যাওয়ার এক শান্ত, সতেজ ও অসাধারণ অভিজ্ঞতা। কক্সবাজারে ভ্রমণ করলে অবশ্যই একবার এখানকার সুন্দর পরিবেশে সময় কাটিয়ে দেখুন। এটি নিঃসন্দেহে আপনার ভ্রমণ স্মৃতিতে বিশেষ স্থান করে নেবে।
