কক্সবাজারে কমদামি সেরা ১০টির খাবার হোটেল তালিকা
কক্সবাজারে ঘুরতে এলে প্রথম যে প্রশ্নটা প্রায় সবাই করে—“ভালো আর সস্তা খাবার কোথায় পাওয়া যাবে?”। কারণ ভ্রমণের খরচের বড় একটা অংশ চলে যায় খাবারের পেছনে। আমি নিজে একাধিকবার কক্সবাজার ঘুরেছি—কখনো বন্ধুদের সঙ্গে, কখনো পরিবার নিয়ে, আবার কখনো একাই। এই সব ভ্রমণে বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি আমি খুঁজেছি এমন কিছু খাবার হোটেল, যেখানে দাম কম কিন্তু খাবারের স্বাদ আর পরিমাণ ঠিক থাকে।
সত্যি কথা বলতে, কক্সবাজারে শুধু দামি রেস্টুরেন্টই নয়—লোকাল, মাঝারি আর বাজেট ফুড হোটেলের সংখ্যাও কম নয়। তবে সমস্যা হলো, নতুন ভ্রমণকারীরা বেশিরভাগ সময় জানেন না কোনটা আসলেই ভালো আর কোনটা শুধু নামেই সস্তা। আমি নিজে ভুল জায়গায় ঢুকে খারাপ অভিজ্ঞতাও পেয়েছি, আবার কিছু হোটেল পেয়েছি যেগুলো এখনো বন্ধুদের রেকমেন্ড করি।
এই আর্টিকেলে আমি কক্সবাজারের ১০টি কমদামি খাবার হোটেল শেয়ার করছি, যেগুলোতে আমি নিজে খেয়েছি বা একাধিকবার গিয়েছি। এখানে আপনি জানতে পারবেন—হোটেলগুলোর লোকেশন কোথায়, কোন ধরনের খাবার ভালো, আনুমানিক দাম কেমন এবং কোনটা কোন টাইপ ভ্রমণকারীর জন্য উপযুক্ত। পাশাপাশি থাকছে ভিজিটরদের করা ৭টি বাস্তব প্রশ্নোত্তর।
কক্সবাজারের সেরা ১০টি কমদামি খাবার হোটেল (নিজের অভিজ্ঞতায়)১) ঝাউবন রেস্টুরেন্ট
লোকেশন: লাবণী বিচ রোড
ভাত, মাছ, ভর্তা একদম ঘরোয়া স্টাইল
খরচ: ১৫০–২৫০ টাকা
আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে ভ্যালু ফর মানি২) পলাশী হোটেল
লোকেশন: কলাতলী মোড়
ভাত + দেশি তরকারি
খরচ: ১২০–২০০ টাকা
ছাত্র ও বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য পারফেক্ট৩) নিরিবিলি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট
লোকেশন: সুগন্ধা পয়েন্ট
মাছ ভাজা ও ডাল
খরচ: ১৮০–৩০০ টাকা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ৪) হোটেল শামীম
লোকেশন: বাজারঘাটা
দেশি মাছের আইটেম
খরচ: ২০০ টাকার মধ্যেই পেটভরা
লোকালদের ভিড় বেশি—মানে ভালো৫) আলিফ হোটেল
লোকেশন: কলাতলী বাস টার্মিনাল
ভাত, মুরগি, ডাল
খরচ: ১৫০–২৫০ টাকা
রাতে খাবারের জন্য ভালো অপশন৬) হোটেল সী-ফুড প্যালেস (লোকাল সেকশন)
লোকেশন: ফিশারিঘাট
ফ্রেশ সামুদ্রিক মাছ
খরচ: ২৫০–৪০০ টাকা
কম দামে ফ্রেশ ফিশ৭) মামা-ভাগিনা হোটেল
লোকেশন: টেকপাড়া
ঘরোয়া রান্না
খরচ: ১২০–১৮০ টাকা
একদম হোমমেড ফিল৮) হোটেল আলমগীর
লোকেশন: লালদীঘি পাড়া
ভাত + গরুর ভুনা
খরচ: ২০০–৩০০ টাকা
পরিমাণ ভালো৯) নিউ ঝাউতলা হোটেল
লোকেশন: ঝাউতলা
সাধারণ কিন্তু স্বাদ ভালো
খরচ: ১৫০–২২০ টাকা
সকালের নাস্তা ভালো১০) সৈকত ভোজনালয়
লোকেশন: সুগন্ধা বিচ
ভাত + মাছ
খরচ: ২০০–৩০০ টাকা
পর্যটকদের জন্য সহজ লোকেশনভিজিটরদের করা ৭টি প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: কক্সবাজারে সবচেয়ে সস্তা খাবার কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: বাজারঘাটা ও টেকপাড়া এলাকায়।
প্রশ্ন: কম দামে ভালো সী-ফুড কোথায় খাবো?
উত্তর: ফিশারিঘাট এলাকার হোটেলগুলোতে।
প্রশ্ন: পরিবার নিয়ে কোথায় খাওয়া ভালো?
উত্তর: নিরিবিলি হোটেল বা সৈকত ভোজনালয়।
প্রশ্ন: দিনে না রাতে খাবার সস্তা?
উত্তর: দিনে তুলনামূলক সস্তা।
প্রশ্ন: ভাত ছাড়া খাবার পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে বাজেট হোটেলে ভাতই বেশি প্রচলিত।
প্রশ্ন: পর্যটক হলে প্রতারণার ভয় আছে?
উত্তর: নির্দিষ্ট দাম জেনে নিলে সমস্যা হয় না।
প্রশ্ন: একবেলায় গড়ে কত খরচ হয়?
উত্তর: ১৫০–৩০০ টাকার মধ্যে।
সবশেষে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথাই বলবো—কক্সবাজারে ভালো খাবার মানেই যে অনেক টাকা খরচ করতে হবে, বিষয়টা মোটেও এমন নয়। একটু খোঁজখবর আর সঠিক জায়গা জানলেই এখানে কম দামে পেটভরে, স্বাদে ভরপুর খাবার খাওয়া যায়। আমি নিজে প্রথমদিকে না জেনে অনেক বেশি দাম দিয়ে খেয়েছি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকাল হোটেলগুলো খুঁজে পেয়েছি, যেগুলো এখনো আমার ফেভারিট।
এই তালিকায় থাকা হোটেলগুলো মূলত সেই জায়গাগুলো, যেখানে স্থানীয় মানুষজন নিয়মিত খেতে আসে। আর যেখানে লোকালদের ভিড় থাকে, সেখানে সাধারণত খাবারের মান আর দামের ভারসাম্য ঠিকই থাকে। বিশেষ করে যারা বাজেট ট্রিপে কক্সবাজার আসেন, ছাত্র, ব্যাকপ্যাকার বা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন—তাদের জন্য এই গাইডটি অনেক কাজে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
আমার পরামর্শ থাকবে—হোটেলে ঢোকার আগে দাম জিজ্ঞেস করুন, খুব বেশি ঝকঝকে রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে চলুন এবং লোকাল এলাকায় খাবার ট্রাই করুন। এতে শুধু টাকা বাঁচবে না, কক্সবাজারের আসল খাবারের স্বাদটাও পাওয়া যাবে। আশা করি এই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা আর্টিকেলটি আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক করে তুলবে।
.jpg)