কক্সবাজারের বিখ্যাত খাবার – নিজের খাওয়ার অভিজ্ঞতায় এমন ১২টি খাবার যেগুলো মিস করলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে

কক্সবাজার মানেই শুধু সমুদ্র না—কক্সবাজার মানেই খাবারের স্বাদে ভ্রমণ। আমি যখন প্রথম কক্সবাজার গিয়েছিলাম, তখন ভাবতাম—ভালো হোটেল, সুন্দর বিচ আর কিছু ছবি তুললেই ট্রিপ শেষ। কিন্তু দ্বিতীয়বার গিয়ে বুঝলাম, কক্সবাজারকে আসলে চেনা যায় তার খাবার দিয়ে। এই শহরে এমন কিছু খাবার আছে, যেগুলো ঢাকায় বা অন্য কোথাও খেলেও সেই স্বাদটা পাওয়া যায় না। কারণ এখানে

  • মাছ একদম ফ্রেশ
  • রান্নায় লোকাল মশলার ব্যবহার
  • আর আছে সমুদ্রের হাওয়া
গত কয়েক বছরে আমি সুগন্ধা বিচ এলাকাতেই বেশি থেকেছি। সেখান থেকে হেঁটে, রিকশায়, কখনো অটোতে করে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিজে খেয়ে দেখেছি—কোন খাবারটা আসলেই “বিখ্যাত”, আর কোনটা শুধু নামেই।
এই আর্টিকেলে আমি লিখছি—
  • কোন খাবার কক্সবাজারে গেলে অবশ্যই খাওয়া উচিত
  • কোথায় খেয়েছি
  • সুগন্ধা বিচ থেকে কত দূর
  • কোন খাবার কাদের জন্য ভালো
আপনি যদি কক্সবাজারে যান আর এই খাবারগুলো মিস করেন, তাহলে সত্যি বলতে—ট্রিপটা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।
Cox's Bazar means traveling through the taste of food.

কক্সবাজারের বিখ্যাত খাবার (নিজের অভিজ্ঞতায়)

লইট্টা শুঁটকি ভুনা – কক্সবাজারের পরিচয়
প্রথম যেই খাবারটা আমাকে “কক্সবাজারের স্বাদ” বুঝিয়েছে, সেটা লইট্টা শুঁটকি ভুনা।
📍 কোথায় খেয়েছি-ঝাউবন এলাকার লোকাল রেস্টুরেন্ট
🚶 সুগন্ধা বিচ থেকে দূরত্ব-রিকশায় ৭–৮ মিনিট (প্রায় ২ কিমি)
🍽️ নিজের অভিজ্ঞতা-ঝাল, একটু তেলতেলে, সাথে ভাত—এই কম্বিনেশনটা অসাধারণ।
ঢাকায় অনেক জায়গায় খেলেও এখানে যেই ফ্লেভারটা পেয়েছি, সেটা আলাদা।
✔ অবশ্যই ট্রাই করবেন
❌ ঝাল সহ্য না হলে সাবধান

সামুদ্রিক লবস্টার – একবার হলেও
কক্সবাজারে এসে লবস্টার না খেলে আফসোস থাকবে।
📍 কোথায়-নিরিবিলি রেস্টুরেন্ট, কলাতলী
🚶 দূরত্ব-সুগন্ধা বিচ থেকে হেঁটে ১২–১৫ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-লাইভ লবস্টার দেখিয়ে রান্না করে। দাম বেশি, কিন্তু স্বাদ একেবারে প্রিমিয়াম।

চিংড়ি মালাইকারি
📍 কোথায়-পুস্পিতা সি ফুড, কলাতলী
🚶 দূরত্ব-অটোতে ৫ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-ঘন গ্রেভি, নারকেলের স্বাদ—ভাতের সাথে পারফেক্ট।

ভাজা লইট্টা মাছ
📍 কোথায়-ঝাউবন বিচ সাইড শপ
🚶 দূরত্ব-রিকশায় ৭ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-বিকেলের নাস্তায় গরম গরম ভাজা লইট্টা মাছ—অসাধারণ!

সামুদ্রিক কোরাল মাছ ভুনা
📍 কোথায়-মাছঘর রেস্টুরেন্ট, কলাতলী
🚶 দূরত্ব-হেঁটে ১৫ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-মাংসল মাছ, ঝাল ঝাল স্বাদ।

গ্রিলড স্কুইড
📍 কোথায়-লাইভ ফিশ রেস্টুরেন্ট
🚶 দূরত্ব-অটোতে ৬ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-নরম, স্মোকি ফ্লেভার—লেবু দিলে স্বাদ দ্বিগুণ।

সামুদ্রিক কাঁকড়া ভুনা
📍 কোথায়-নিরিবিলি রেস্টুরেন্ট
🚶 দূরত্ব-১২ মিনিট হাঁটা
🍽️ অভিজ্ঞতা-খেতে কষ্ট, কিন্তু স্বাদ দারুণ।

শুঁটকি ভর্তা প্লাটার
📍 কোথায়-লোকাল হোটেল (কলাতলী)
🚶 দূরত্ব-রিকশায় ৫–৬ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-লইট্টা, ফাইস্যা, চিংড়ি শুঁটকি—এক প্লেটে।

মাছের ঝোল ভাত (লোকাল স্টাইল)
📍 কোথায়-ঝাউবন লোকাল হোটেল
🚶 দূরত্ব-৭ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-সিম্পল, কিন্তু মন ছুঁয়ে যায়।

সামুদ্রিক ফিশ BBQ
📍 কোথায়-কলাতলী বিচ রোড
🚶 দূরত্ব-হেঁটে ১০ মিনিট
🍽️ অভিজ্ঞতা-রাস্তায় বসে খাওয়ার মজা আলাদা।

নারকেল চিংড়ি তরকারি
📍 কোথায়-পুস্পিতা
🚶 দূরত্ব-৫ মিনিট

সমুদ্রের পাশে চা + চানাচুর
📍 কোথায়-সুগন্ধা বিচ
🚶 দূরত্ব-নিজের অবস্থানেই 😄

Visitor Comment Based FAQ 
প্রশ্ন ১: কক্সবাজারের সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার কোনটি?
উত্তর: লইট্টা শুঁটকি ভুনা।

প্রশ্ন ২: সুগন্ধা বিচের কাছে কোন খাবার সহজে পাওয়া যায়?
উত্তর: ভাজা লইট্টা মাছ ও ফিশ BBQ।

প্রশ্ন ৩: লবস্টার খেতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: সাইজ অনুযায়ী ৩,০০০–৬,০০০ টাকা।

প্রশ্ন ৪: কম বাজেটে কোন খাবার ভালো?
উত্তর: ভাজা লইট্টা ও শুঁটকি ভর্তা।

প্রশ্ন ৫: পরিবার নিয়ে কোন খাবার সেফ?
উত্তর: চিংড়ি মালাইকারি ও মাছের ঝোল।

প্রশ্ন ৬: ঝাল না খেলে কী খাবো?
উত্তর: গ্রিলড স্কুইড বা লবস্টার।

প্রশ্ন ৭: রাতের বেলা কোথায় খাবো?
উত্তর: কলাতলী এলাকা।

প্রশ্ন ৮: লোকাল স্বাদ কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: ঝাউবন ও লোকাল হোটেলগুলোতে।

প্রশ্ন ৯: শুঁটকি খেতে গন্ধ বেশি?
উত্তর: ঠিকভাবে রান্না করলে না।

প্রশ্ন ১০: ফ্রেশ মাছ কিভাবে বুঝবো?
উত্তর: লাইভ ডিসপ্লে থাকা রেস্টুরেন্ট বেছে নিন।

প্রশ্ন ১১: সস্তায় সি ফুড কোথায়?
উত্তর: লোকাল BBQ শপ।

প্রশ্ন ১২: একদিনে সব ট্রাই করা যাবে?
উত্তর: না, অন্তত ২–৩ দিন দরকার।

কক্সবাজারে খাবার মানে শুধু খাওয়া না—এটা একটা সংস্কৃতি, একটা অভিজ্ঞতা।
আমি এই লেখায় চেষ্টা করেছি
  • নিজের খাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে
  • টুরিস্ট ফাঁদ থেকে বাঁচাতে
  • কোন খাবার সত্যিই “মিস না করা উচিত” সেটা পরিষ্কার করতে
আপনি যদি কক্সবাজার যান আর এই খাবারগুলোর অর্ধেকও ট্রাই করেন, নিশ্চিতভাবেই আপনার ভ্রমণের স্মৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
Next Post Previous Post
sr7themes.eu.org